বিশ্ব ধ্যান দিবস: ব্যক্তিগত সুস্থতা ও বৈশ্বিক সম্প্রীতি গঠনে ধ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে গত ২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব ধ্যান দিবস পালিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো এ উপলক্ষে ধ্যানকে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরে।
ধ্যান একটি প্রাচীন অনুশীলন, যা বিশেষভাবে বৌদ্ধধর্মে ভাবনা নামে পরিচিত এবং মুক্তিলাভের পথে একটি কেন্দ্রীয় সাধনা। বুদ্ধের ত্রিশিক্ষা—শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার মধ্যে সমাধি বা ধ্যান মনকে সংযত করে প্রজ্ঞার বিকাশে সহায়তা করে। বিপাসনা ও সমথ ভাবনার মাধ্যমে অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্মার সত্য উপলব্ধির পথ উন্মুক্ত হয়।
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ধ্যানচর্চা মানসিক চাপ কমানো, মনোযোগ ও আবেগের ভারসাম্য রক্ষা এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক। ডিজিটাল প্রযুক্তির ফলে অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ধ্যানচর্চা আরও সহজলভ্য হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় মাইন্ডফুলনেসভিত্তিক ধ্যানের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ঘোষণার ভিত্তিতে ২১ ডিসেম্বর বিশ্ব ধ্যান দিবস পালিত হয়, যা সর্বোচ্চ মানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভোগের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ উপলক্ষে গত ১৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে “Meditation for Global Peace and Harmony” শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের পর নির্দেশিত ধ্যান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের মতে, ধ্যান ব্যক্তিগত শান্তির পাশাপাশি বৈশ্বিক শান্তি ও টেকসই কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।