বুদ্ধের মস্তকে গুড়ি গুড়ি এগুলো কি?

বুদ্ধের মস্তকে গুড়ি গুড়ি এগুলো কী? এটি একটি ভিডিওর শিরোনাম। সম্প্রতি গৌতম বুদ্ধের মস্তকের উপর লক্ষ্যনীয় গুড়ি গুড়ি দেখতে চিহ্ন গুলো নিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও কন্টেন্ট চোখে পড়েছে। বেশ কিছু উপাসক এই বিষয়টি নিয়ে জানতে ফেইসবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমিও “আজ বিকেলে” নামক একটি ফেইসবুক ভিডিও কন্টেন্টে কমেন্ট করেছি। হয়তো ইতোমধ্যে অনেকে কমেন্টটি পড়েছেন।

ভিডিওটিতে একটি কাল্পনিক গল্প জুড়ে দিয়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:

এক দিন গৌতম বুদ্ধ রুদ্র তপ্ত দিনে গাছের নিচে ধ্যানে বসেছিলেন। গাছের নিচে বসা সত্ত্বেও রোধের প্রখর রশ্মি বুদ্ধের মস্তকে এসে পড়েছিল। এতে বুদ্ধের ধ্যানে সমস্যা হচ্ছিল টের পেয়ে একটি শামুক বুদ্ধের মাথায় উঠে তার শরীরের আদ্রভাব দিতে লাগলো। প্রথম শামুকের দেখাদেখি ১৮০ টি শামুক একই ভাবে বুুদ্ধের মাথায় ওঠে অদ্রতা দিয়ে বুদ্ধকে ধ্যানে সহায়তা করছিল। এক পর্যায়ে শামুকগুলো বুদ্ধের মস্তকেই প্রাণ হারালো।

বুদ্ধ যখন বিকেলে ধ্যান থেকে ওঠলেন, তিনি মরা শামুক গুলো দেখে মর্মাহত হলেন। এই ঘটনা থেকেই শামুকের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে বুদ্ধের মস্তকে ১৮০ টি শামুক দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়।

মূলত উপরের গল্পটি একটি বানানো গল্প। এই গল্পের ভিত্তি হিসিবে ভিডিও নির্মাতা কোন দলিল উল্লেখ করেনি।

এই বিষয়ে জানতে বৌদ্ধ বার্তা’র পক্ষ থেকে আমাকে অনুরোধ করা হলে, আমিও বিষয়টি নিয়ে বৌদ্ধ বার্তায় লিখতে আগ্রহ প্রকাশ করলাম।

বুদ্ধের মস্তকে গুড়ি গুড়ি এসব কি?

বুদ্ধের শরীরে অশিতী বা আশিটি অনুব্যঞ্জন ছিল এর মধ্যে বুদ্ধের শরীরের কেশ ও লোম সমূহের অগ্রভাগ সব সময় উর্ধদিকে মুখ করে থাকে।

সাধারণ মানুষের মাথার চুল বা কেশ ও শরীরের লোম সমূহের অগ্রভাগ নিম্ন দিকে মুখ হয়ে থাকে। তাছাড়া বুদ্ধের মস্তকের চুল বা কেশ সমূহ সাধারণ মানুষের চুলের মতো সোজা ছিল না, চুলগুলো ছিল স্প্রিং এর মতো, যখন একটা চুলকে টেনে সোজা করে ছেড়ে দেওয়া হয় সাথে সাথে চুলটি স্প্রিং এর মতো পেচিয়ে গোলাকার হয়ে বসে যেতো এবং চুলের অগ্রভাগটি উর্ধদিকে মুখ করে থাকত।

বুদ্ধের মস্তকে গুড়ি গুড়ি এগুলো কি?

এভাবে থাকার কারণ হল- এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে বুদ্ধই হচ্ছেন সর্বজ্ঞ জ্ঞানী, এরকম জ্ঞান দ্বিতীয় কারো নেই, তাই বুদ্ধের শরীরে ৩২টি মহাপুরুষ লক্ষণ ও অশীতি অনুব্যঞ্জন সমূহ বিদ্যমান ছিল, সম্যক সম্বুদ্ধ ব্যতিত এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দ্বিতীয় কোন পুরুষের শরীরে এই মহা লক্ষণ ও অনুব্যঞ্জন গুলো থাকে না।

এগুলো থাকার মূল কারণ হচ্ছে তিনি চারি মহা অসংখ্য কল্প অবধি ত্রিশ প্রকার পারমী সম্ভার পুরণ করে এসেছেন এবং সেই মহা পারমী সমূহ পরিপুর্ণ করার কারণে বুদ্ধের শরীরে এই লক্ষণ সমূহ উৎপন্ন হয়।

কোন কোন ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাতা বুদ্ধের মস্তকের এই ব্যঞ্জনগুলো নিয়ে কাল্পনিক ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বিকৃতভাবে প্রচার করছে। যে কোন বিষয়ে পূর্ণজ্ঞান না থাকলে সে বিষয়ে কোন কিছু প্রচার, মন্তব্য বা ডকুমেন্টারি করা উচিত নয়। কাজেই কোন বিষয়ে কন্টেন্ট তৈরী করার আগে সে বিষয়ে বিস্তারিত যেনে নিন। যারা এই বিষয়ে পন্ডিত বা যথেষ্ট জ্ঞান আছে তাদের পরামর্শ নিন। দরকার বশত তাদের বক্তব্য কন্টেন্টে যুক্ত করুন।

শ্রদ্ধাবান বৌদ্ধ সম্প্রদায়গণ সম্প্রতি ”আজ বিকেলে” নামক ফেইজবুক গ্রুপ/পেইজ, ইউটিউব চ্যানেলে বুদ্ধের মস্তকের উপরের অংশ নিয়ে যে কাল্পনিক তথ্য উপস্থাপন করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনারা ভিডিওটি দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।

আমি বৌদ্ধ, অবৌদ্ধ যে কোন আগ্রহী ব্যক্তিকে অনুরোধ করবো, বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জেনে তারপর ডকুমেন্টারি করুন। অথবা যারা ধর্ম সম্পর্কে পন্ডিত তাদের পরামর্শ নিন, তাদের বক্তব্য যুক্ত করলে সবচেয়ে ভাল হয়।

ডক্টর ধর্মরক্ষিত ভান্তে
North Hollywood, Los Angeles, California, USA.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!