দক্ষ ও গুণী ভিক্ষু চায় বৌদ্ধ সমাজ!

দক্ষ ও গুণী ভিক্ষু চায় বৌদ্ধ সমাজ: বর্তমানে নান্দনিক বৌদ্ধ বিহার হচ্ছে, কিন্তু সেই বিহার পরিচালনা করার জন্য যোগ্য ভিক্ষু হচ্ছে না। বৌদ্ধ সমাজে গুণী ভিক্ষু ও সঠিক ধর্ম-বিনয় পালনকারী ভিক্ষুর অভাব।

Read in English

আমার এই আলোচনার সূচনা পড়েই অনেকেই হয়তো বলবেন, ”আপনি আগে যোগ্য হোন, তারপর আপনার শিষ্যদের যোগ্য করুন।”

আমি সরল মানুষ সহজ-সরল স্বীকারোক্তি, আমি বুদ্ধের শাসনে এসেছি অভাবের কারণে, আমার পরিবার এতো বিত্তশালী নয় যে আমাকে তারা লেখাপড়া করিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা ভালো একটি চাকরি দিতে পারবে।

দক্ষ ও গুণী ভিক্ষু চায় বৌদ্ধ সমাজ!

প্রথমেই বলেছি অভাবের তাড়না থেকেই বৌদ্ধ শাসনে শ্রামণ হয়েছি, যতটুকু পেরেছি সাধারণ শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেছি। ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে গিয়ে আমি জীবনকে খুব কাছে থেকে উপলব্ধি করেছি, জেনেছি বহুকিছু, অভিজ্ঞতা হয়েছে হাজার বিষয়ে।

শিশুকাল থেকে শ্রামণ্য ধর্মে থেকে আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া করে সার্টিফিকেট অর্জন করে একটি অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমার এই অর্জন ও কৃতিত্ব সবকিছুর জন্য আমার দায়ক-দায়িকার কৃতিত্ব অনেক বেশি। শ্রদ্ধবান দায়ক-দায়ীকাগণের সহযোগীতায় আজ পর্যন্ত বুদ্ধের শাসন স্বধর্মে আমি ভিক্ষু হয়ে এখনো আছি।

এই পৃথিবীতে এমন একজনও নাই যে তার আশে পাশের সকল মানুষকে খুশি করে পৃথিবী ত্যাগ করতে পেরেছেন। আমার বাহ্যিক আচরণ, বলনে-চলনে অনেকেই বলবেন হয়তো আপনি তো ধর্মের কিছুই জানেন না, আপনাকে দিয়ে  কি বুদ্ধের শাসনের কি উপকার হবে? হয়তো প্রথম লাইনকে পুজি করে বলতে পারেন, অভাব থেকে ভিক্ষু হয়ে গৃহীদের দয়ায় বড় হয়েছি।

আপনার দৃষ্টিতে আমি কিছুই জানি না। আমি কিছু না জানা সত্ত্বেও বিহার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, সন্ধ্যার সময় বুদ্ধের সামনে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে বুদ্ধের আসন আলোকিত করি। কিছু না জানলেও শুধু মাত্র পঞ্চশীল দিতে জানি বলেই আপনি/আপনারা এসে পঞ্চশীল প্রার্থনা করে গ্রহন করেন বুদ্ধের মুখনিসৃত সূত্র আবৃত্তি শুনতে পান।

যোগ্য ভিক্ষু কিভাবে তৈরি হবে?

আমাদের বৌদ্ধ সমাজে সাধারণত পরিবার পরিকল্পনা সবচেয়ে ভাল মানা হয়। বর্তমান সমাজের কোন বৌদ্ধ দম্পতি ২টির বেশি সন্তান নিতে তেমন দেখা যায় না। তার মধ্যে সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অফিসার বানানোর স্বপ্ন থাকে সবার মাঝে। বেশিরভাগ স্বচ্ছল পরিবার বুদ্ধ শাসনে পুত্র দানের চিন্তা মাথায় আনেন না। দরিদ্র মধ্যবিত্তরাই বুদ্ধ শাসনে পুত্র দান করে বৌদ্ধ শাসন আজ পর্যন্ত টিকিয়ে রেখেছে।

গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন ছেলে যখন ভিক্ষু হয়ে সুন্দর করে বিহার পরিচালনা করেন, দায়ক-দায়ীকাদের সুপরামর্শ দেন তখন তার মধ্যে সমান্য ভুলত্রুটি হতেই পারে।

বিভিন্ন মাঙ্গলিক কাজে ভান্তেকে বাড়িতে এনে সূত্র পাঠ করান। সূত্র পাঠ করতে গিয়ে ভান্তে জানাবসত বা অজানাবসত সূত্রের মধ্যে কিছুটা ভুল আবৃত্তি করেছেন। দেশনা করতে গিয়ে একটু এলোমেলো হয়েছে। যদি কোন কারণে এমন ছোটখাটো ভুল কখনো হয়, তাহলে শুরু হলো সেই ভিক্ষুকে নিয়ে সমালোচনা। তখন তার চৌদ্দ গুষ্টি কি ছিল, কি করতো তা এনে হাজির করবে সভা সমিতিতে। কেউ বলেন ভান্তে মূর্খ, কেউ বলেন ভান্তে কিছুই জানে না, ভান্তেকে বিহারে রাখা যাবে না, নতুন ভান্তে বা যোগ্যতা সম্পন্ন ভিক্ষু চাই আমরা।

এদিকে আপনার আদরের দুলালকে দিচ্ছেন না বুদ্ধ শাসনে অপর দিকে যারা শাসনকে টিকিয়ে রেখেছে তাদের সমান্য ভুলত্রুটিতে অপনাম করছেন রীতিমতো।

আপনি আপনার সবচেয়ে মেধাবী ছেলেটিকে বুদ্ধ শাসনে দান করুন, তার বুদ্ধি, জ্ঞান, প্রজ্ঞা দিয়ে বুদ্ধের ভাষিত বাণী গবেষণা করে নতুন করে শেখাবে বৌদ্ধ ধর্মকে। আপনার মেধাবী ছেলেটিকে বুদ্ধ শাসনে দান করার মাধ্যমেই বুদ্ধ শাসন পাবে যোগ্য ভিক্ষু।

দক্ষ ভিক্ষু দেওয়ার আহ্বান

১। শিক্ষিত একজন সন্তান (সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা) দান করোন বুদ্ধের শাসনে, আপনি কি দান করবেন?

২। আপনার মেধাবী সন্তানকে বুদ্ধের শাসনের প্রতি আগ্রহী করে তোলুন।

৩। একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান সে  শ্রামণ হয়ে লেখা পড়া করে আপনার সন্তানদের মতো শিক্ষিত হয়ে একজন দক্ষ ভিক্ষু হতে চায় কিন্তু তার পরিবার সচ্ছল নয়। আপনি কি এমন একজন ছেলেকে আপনার সন্তানের মতো করে শিক্ষা লাভ করে দক্ষ ভিক্ষু হতে সহায়তা করবেন?

লেখক-
ভদন্ত তিষ্যানন্দ ভিক্ষু
প্রধান পরিচালক: ঋদ্বিময় নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!