ধাম্মাম ছবিতে বুদ্ধকে অপমান, ভারত জুড়ে প্রতিবাদ

ধাম্মাম নামক একটি শর্ট ফিল্ম বৌদ্ধদের মাঝে চরম হতাশা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রমিত ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পরিচালক পা রঞ্জিত ধাম্মাম নামক একটি শর্ট ফিল্ম রিলিস করলে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য ছাড়িয়ে সমগ্র ভারতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শর্ট ফিল্মটির একটি দৃশ্যে বুদ্ধের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অপমান করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। তামিলনাড়ু বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিল (টিএনবিএসসি) বলেছে যে ছবিটি থেকে বুদ্ধকে অপমান করার দৃশ্যটি সরানো না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্ট ফিল্ম ধাম্মাম এর একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে একটি কিশোরী মেয়ে বুদ্ধ মূর্তির উপর আরোহণ করে এবং বুদ্ধমুর্তির কাঁধে দাঁড়িয়ে মেয়েটি বাহু প্রসারিত করে উড়ার ভান করছে। তার আশে-পাশে সমৃদ্ধ সবুজ ক্ষেত এবং একটি ধূসর আকাশ দ্বারা বেষ্টিত দেখানো হয়েছে। পাশের মাঠে মেয়েটির বাবা গোড়ালি গভীর জলে কাজ করছেন, যখনই মেয়েকে সে দেখতে পায় তাকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করেন কেন সে “আমাদের ঈশ্বর” নিয়ে খেলছে। মেয়েটি উত্তর দেয়, “বুদ্ধ নিজেই ঘোষণা করেছেন যে কোন দেবতা নেই অথচ আপনি তাকে দেবতা বলছেন।” বাবা-মেয়ের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে করে দৃশ্যটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শর্টি ফিল্ম “ধম্মাম” থেকে।

https://www.youtube.com/watch?v=z6fnARdbrnY
চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করুন

জানা গেছে ছবিটির মাধ্যমে পরিচালক রঞ্জিত ভারতের বর্ণপ্রথাকে তোলে ধরতে চেয়েছেন, যা ভারতীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায়ই বিতর্কিত বিষয়। দলিতরা আজও বিভিন্ন স্তরে বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছে, প্রায়ই তাদের শারীরিক সহিংসতার শিকারও হতে হয়।

দলিত একটি শব্দ যা ভারতে প্রায়শই উচ্চ বর্ণের দ্বারা “অস্পৃশ্য” বা “বহির্ভূত” হিসাবে বিবেচিত লোকদের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিবিসি নিউজে বলা হয়েছে, “ভারতের বর্ণপ্রথা আজ অবধি টিকে থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম সামাজিক স্তরবিন্যাসগুলির মধ্যে একটি। . . .

উচ্চ বর্ণের অনেকেই এখনও বিশ্বাস করেন যে একজন দলিতের সাথে সম্পর্ক তাদের কলুষিত করবে। এছাড়াও, ভারতে, অনেকে বিশ্বাস করে পা শরীরের একটি বিশেষভাবে নোংরা এবং দূষিত অঙ্গ। রঞ্জিতের মতে, একটি দলিত মেয়ে বুদ্ধ মূর্তির কাঁধে পা রেখে সামাজিক আচার-আচরণকে গভীরভাবে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি বলেন, ”আমি বিষয়টি ধাম্মাম ছবির মাধ্যমে সর্বজনীন করুণার বৌদ্ধ দর্শনের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি।”

এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ এই কাজটিকে অত্যান্ত গর্হিত ও নোংরামি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহাকারীদের একটি অংশ রঞ্জিতের বৌদ্ধ চিন্তাধারার চিত্রায়নের জন্য প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।

অনেকে এই দৃশ্যের বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। TNBSC রঞ্জিতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তামিলনাড়ু বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিল (টিএনবিএসসি)  জানিয়েছে যে ধাম্মাম ছবির দৃশ্যটি বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তারা রঞ্জিতকে ছবিটি থেকে দৃশ্যটি সরিয়ে দেওয়ার এবং জনসাধারণের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। TNBSC এছাড়াও তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকারকে দৃশ্যটি অনলাইনে শেয়ার করা নিষিদ্ধ করতে বলেছে। TNBSC যোগ করেছে যে তারা পরিচালকের কোন ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়।

বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (VCK) এর ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি গৌতমা সান্নাও বলেছেন যে তিনি দৃশ্যটিকে আপত্তিকর বলে মনে করেন।

ফেসবুকে পোস্ট করা একটি বার্তায় তিনি বলেন, “যখন আমরা বুদ্ধকে অপমান করার দৃশ্যের প্রতিক্রিয়ার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে বুদ্ধ এবং আম্বেদকর যে দেশে আবির্ভূত হয়েছিল সেখানে যুক্তি পচে গেছে। এটা বিশ্বাস করা কুসংস্কারপূর্ণ যে বুদ্ধের সাথে এভাবেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। সেই কুসংস্কারের পরবর্তী ধাপ হল বিশ্বাস করা যে বুদ্ধ এবং আম্বেদকর শব্দটি উচ্চারণ করলেই একজন তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানেন।”

সান্না যোগ করে বলেন, “এমনকি আম্বেদকরও বুদ্ধের উপাসনা করেছিলেন, এটা সর্বোচ্চ অজ্ঞতার প্রকাশ যে, কেউ বুদ্ধের মাথায় আরোহণ করে তাকে ভক্তি করছে। মনে রাখতে হবে, আম্বেদকরকে চপ্পলের মালা পরানো আর ‍বুদ্ধের মাথায় আরোহণ করা একই বিষয় নয় “

ছবিটি রঞ্জিত পরিচালিত ভিকটিম সংকলনের চারটি চলচ্চিত্রের একটি ধাম্মাম। এটি সম্প্রতি SonyLIV OTT প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।

ধাম্মাম নামক একটি শর্ট ফিল্ম বৌদ্ধদের মাঝে চরম হতাশা ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রমিত ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পরিচালক পা রঞ্জিত ধম্মাম নামক একটি শর্ট ফিল্ম রিলিস করলে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য ছাড়িয়ে সমগ্র ভারতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শর্ট ফিল্মটির একটি দৃশ্যে বুদ্ধের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অপমান করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। তামিলনাড়ু বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিল (টিএনবিএসসি) বলেছে যে ছবিটি থেকে বুদ্ধকে অপমান করার দৃশ্যটি সরানো না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শর্ট ফিল্ম ধম্মাম এর একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে একটি কিশোরী মেয়ে বুদ্ধ মূর্তির উপর আরোহণ করে এবং বুদ্ধমুর্তির কাঁধে দাঁড়িয়ে মেয়েটি বাহু প্রসারিত করে উড়ার ভান করছে। তার আশে-পাশে সমৃদ্ধ সবুজ ক্ষেত এবং একটি ধূসর আকাশ দ্বারা বেষ্টিত দেখানো হয়েছে। পাশের মাঠে মেয়েটির বাবা গোড়ালি গভীর জলে কাজ করছেন, যখনই মেয়েকে সে দেখতে পায় তাকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করেন কেন সে “আমাদের ঈশ্বর” নিয়ে খেলছে। মেয়েটি উত্তর দেয়, “বুদ্ধ নিজেই ঘোষণা করেছেন যে কোন দেবতা নেই অথচ আপনি তাকে দেবতা বলছেন।” বাবা-মেয়ের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে করে দৃশ্যটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শর্টি ফিল্ম “ধম্মাম” থেকে।

https://www.youtube.com/watch?v=z6fnARdbrnY

জানা গেছে ছবিটির মাধ্যমে পরিচালক রঞ্জিত ভারতের বর্ণপ্রথাকে তোলে ধরতে চেয়েছেন, যা ভারতীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আলোচনায় প্রায়ই বিতর্কিত বিষয়। দলিতরা আজও বিভিন্ন স্তরে বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছে, প্রায়ই তাদের শারীরিক সহিংসতার শিকারও হতে হয়।

দলিত একটি শব্দ যা ভারতে প্রায়শই উচ্চ বর্ণের দ্বারা “অস্পৃশ্য” বা “বহির্ভূত” হিসাবে বিবেচিত লোকদের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিবিসি নিউজে বলা হয়েছে, “ভারতের বর্ণপ্রথা আজ অবধি টিকে থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম সামাজিক স্তরবিন্যাসগুলির মধ্যে একটি। . . .

উচ্চ বর্ণের অনেকেই এখনও বিশ্বাস করেন যে একজন দলিতের সাথে সম্পর্ক তাদের কলুষিত করবে। এছাড়াও, ভারতে, অনেকে বিশ্বাস করে পা শরীরের একটি বিশেষভাবে নোংরা এবং দূষিত অঙ্গ। রঞ্জিতের মতে, একটি দলিত মেয়ে বুদ্ধ মূর্তির কাঁধে পা রেখে সামাজিক আচার-আচরণকে গভীরভাবে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি বলেন, ”আমি বিষয়টি সর্বজনীন করুণার বৌদ্ধ দর্শনের মাধ্যমে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি।”

এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ এই কাজটিকে অত্যান্ত গর্হিত ও নোংরামি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহাকারীদের একটি অংশ রঞ্জিতের বৌদ্ধ চিন্তাধারার চিত্রায়নের জন্য প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।

অনেকে এই দৃশ্যের বিরুদ্ধে চরম প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। TNBSC রঞ্জিতের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তামিলনাড়ু বৌদ্ধ সংঘ কাউন্সিল (টিএনবিএসসি)  জানিয়েছে যে দৃশ্যটি বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং তারা রঞ্জিতকে ছবিটি থেকে দৃশ্যটি সরিয়ে দেওয়ার এবং জনসাধারণের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। TNBSC এছাড়াও তামিলনাড়ুর রাজ্য সরকারকে দৃশ্যটি অনলাইনে শেয়ার করা নিষিদ্ধ করতে বলেছে। TNBSC যোগ করেছে যে তারা পরিচালকের কোন ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়।

বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচি (VCK) এর ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি গৌতমা সান্নাও বলেছেন যে তিনি দৃশ্যটিকে আপত্তিকর বলে মনে করেন।

ফেসবুকে পোস্ট করা একটি বার্তায় তিনি বলেন,“যখন আমরা বুদ্ধকে অপমান করার দৃশ্যের প্রতিক্রিয়ার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখি, তখন আমরা বুঝতে পারি যে বুদ্ধ এবং আম্বেদকর যে দেশে আবির্ভূত হয়েছিল সেখানে যুক্তি পচে গেছে। এটা বিশ্বাস করা কুসংস্কারপূর্ণ যে বুদ্ধের সাথে এভাবেও যোগাযোগ করা যেতে পারে। সেই কুসংস্কারের পরবর্তী ধাপ হল বিশ্বাস করা যে বুদ্ধ এবং আম্বেদকর শব্দটি উচ্চারণ করলেই একজন তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানেন।”

সান্না যোগ করে বলেন, “এমনকি আম্বেদকরও বুদ্ধের উপাসনা করেছিলেন, এটা সর্বোচ্চ অজ্ঞতার প্রকাশ যে, কেউ বুদ্ধের মাথায় আরোহণ করে তাকে ভক্তি করছে। মনে রাখতে হবে, আম্বেদকরকে চপ্পলের মালা পরানো আর ‍বুদ্ধের মাথায় আরোহণ করা একই বিষয় নয় “

ছবিটি রঞ্জিত পরিচালিত ভিকটিম সংকলনের চারটি চলচ্চিত্রের একটি। এটি সম্প্রতি SonyLIV OTT প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!