জাপানি গবেষক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের জন্য রোবোটিক যান আবিষ্কার করেছেন

টোকিও ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা জাপানে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের সাহায্য করার জন্য একটি নতুন রোবোটিক স্যুট আবিষ্কার করেছে সে দেশের গবেষকগণ।

গবেষক দল দাবী করেছে, স্যুটটি পরিধান করলে একজন ব্যাক্তি যানবাহন ছাড়া জাপানের ভিবিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে পারবেন ক্লান্তিহীনভাবে। একজন ব্যক্তির পিছনে এবং পায়ে স্ট্র্যাপ করে পরিধান করতে হয় স্যুটটি। এতে গতি বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ছয়টি ইলেক্ট্রিক মোটর।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল শিকোকুতে “হেনরো” তীর্থযাত্রার আবাসস্থল, যা জাপানী বৌদ্ধধর্মের শিঙ্গন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বৌদ্ধ পুরোহিত কুকাই (৭৭৪-৮৩৫) এর পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। এই বৌদ্ধ পুরোহিত কুকাই এর পদচিহ্ন দেখতে প্রতি বছর অনেক তীর্থযাত্রী হেনরো ভ্রমণ করে। মূলত তাদের কথা মাথায় রেখে ডিভাইসটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেয় জাপানি গবেষক দল।

ওয়াক মেট নামে পরিচিত রোবোটিক স্যুটটি তৈরি করা হয় অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের অর্থায়নে। এর আবিষ্কর্তা ইয়োশিহিরো মিয়াকে টোকিও ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বায়োফিজিক্সের অধ্যাপক। মিয়াকের মতে, ওয়াক মেট ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে ক্লান্তিহীনভাবে চলাফেরা করতে ও গতি বৃদ্ধি করে হাটতে পারবে। এর গতির জন্য সহায়তা করে ইলেকট্রিক মোটরগুলো সিঙ্ক্রোনাইজ করার মাধ্যমে।

Japani Buddhist

ছয়-কিলোগ্রামের এই স্যুটটির প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য পর্যটন-সম্পর্কিত অঞ্চল গুলো বাছায় করা হয়েছে। শিনকোকু তীর্থযাত্রা রুটে প্রায় ৮৮টি মন্দির আছে। রুটটি বয়স্কদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় একটি খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং দীর্ঘ সিঁড়ির জন্য বিখ্যাত। প্রাথমিক পর্যায়ে স্যুটটি বয়স্কদের দিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি ট্রায়ালে ডিভাইসটি মিডিয়াকে বেশ প্রভাবিত করেছিল। একটি ধাতব ব্যাকপ্যাকের মতো সাজানো ডিভাইসটি তীর্থযাত্রীর পায়ে, কাঁধে এবং বাহুতে স্ট্র্যাপের মতো সাজানো দু’জন হাইকারকে একটি উঠানে এবং একটি পাহাড়ের উপরে অনায়াসে চলাচল করতে দেখা যায়। একজন ক্যামেরাম্যান বলেন, “দৃশ্যটি মনোমুগ্ধকর ছিল এবং রোবোকপের বাইরের কিছুর মতো লাগছিল।”

ডিভাইসটি বয়স্ক তীর্থযাত্রীদের তীর্থভ্রমণে নতুন মাত্রা যুগ করবে। জাপানের বিভিন্ন বৌদ্ধ স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমনে দর্শনার্থীরা অল্প সময়ে গাড়ি বা কোন ধরনের যানবাহন ব্যবহার ছাড়াই ঘুরে দেখতে পারবে এই ডিভাইসের সাহায্যে।

৬০ বছরের একজন মহিলা ব্যবহারকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্যুটটি খুবই আশ্চর্যজনক”। তিনি এবং তার স্বামী মান্দারা-জি মন্দির থেকে শুশাকা-জি পর্যন্ত  প্রায় ৫০০ মিটার একটি ঢালু পাহাড়ে উঠেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি আমার দুর্বল ডান হাঁটু নিয়ে চিন্তিত ছিলাম, কিন্তু আমি সুস্থ মানুষের মতো হাঁটতে পারি এই স্যুট পরে।”

শারীরিক থেরাপিতে সহায়তা করার জন্য ওয়াক মেট ইতিমধ্যেই জাপানের চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন মাত্রা যুগ করবে বলে ধারনা করছে অনেকেই। ইতোমধ্যে জাপানের ভিবিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্র এবং অনেক রিহ্যব সেন্টারে স্যুটটি ক্রয় করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

 

আরো পড়ুন>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!