নিজস্ব প্রতিবেদক | উখিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের উখিয়ার কৃতি সন্তান, প্রজ্ঞা ও সমাজ সংস্কারের অনন্য বাতিঘর শ্রীমৎ কে. শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের-কে তাঁর অসামান্য সমাজসেবা ও মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কর্মবীর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। সম্প্রতি পাইন্যাশিয়া এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের বর্তমানে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।

মানবতার সেবায় এক অনন্য জীবন
১৯৮২ সালে উখিয়ার কুতুপালং গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই ভিক্ষু দেশ-বিদেশের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে:
২০২১ সালে ‘জ্যোতিসেন উচ্চ বিদ্যালয়’ এবং ২০২৪ সালে ‘জ্যোতিসেন মহাথের স্কুল এন্ড কলেজ’। ২০১৯ সালে অসহায় প্রবীণদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘মা-বাবা বৃদ্ধাশ্রম’।
রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ তীর্থস্থানের আমূল পরিবর্তনসহ ১১৫ ফুট দীর্ঘ ড্রাগন ও মিরাকেল গার্ডেন নির্মাণ।
তিনি কেবল নিজ ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি রমজান মাসে অসহায় মুসলিমদের মাঝে ইফতার বিতরণ এবং নিয়মিতভাবে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করে তিনি সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২৪ সালে কলকাতায় ‘মহাত্মা গান্ধী আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার’ লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ‘সদ্ধর্মভাণক’ উপাধিতেও ভূষিত হয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে ‘দুঃখ মুক্তির অন্বেষণ’ ও ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ উল্লেখযোগ্য।
সম্মাননা গ্রহণকালে জানানো হয়, তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে একটি আধুনিক দাতব্য হাসপাতাল এবং সুদন্ত শিশু কল্যাণ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা। এলাকাবাসীর মতে, শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের তাঁর কর্মের মাধ্যমেই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
তাঁর এই অর্জনে পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে।