আসন্ন আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ অনুষ্ঠানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় আয়োজনে লাদাখের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের লাদাখের লেহ শহরে অবস্থিত এমআইএমসি সম্বোধি রিট্রিট সেন্টারে মহাবোধি ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন সেন্টারের (এমআইএমসি) উদ্যোগে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতের আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ পরিষদের (আইটিসিসি) সভাপতি ভদন্ত ভিক্ষু সংঘসেনার দিকনির্দেশনায় আয়োজিত সভায় আসন্ন আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ অনুষ্ঠান, গুরু পদ্মসম্ভব মোনলাম এবং নিংমা মোনলাম চেনমো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব আন্তর্জাতিক ধর্মীয় আয়োজনে লাদাখের বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বৌদ্ধ অনুসারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ অনুষ্ঠান ২০২৬ সালের ২ থেকে ১২ ডিসেম্বর ভারতের বিহার রাজ্যের বোধগয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ওডিশায় গুরু পদ্মসম্ভব মোনলাম এবং ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বোধগয়ায় নিংমা মোনলাম চেনমো অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচনায় বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ভগবান বুদ্ধের শিক্ষা প্রচার-প্রসার এবং বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে লাদাখের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ত্রিপিটক পাঠ পরিষদ, লাইট অব বুদ্ধ ধম্মা ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়া, মহাবোধি ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সংগঠন যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বুদ্ধধর্মের সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসারে কাজ করছে।
সভায় হিজ এমিনেন্স তেরথাং তুলকুর গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় উদ্যোগে অবদান ও সহযোগিতার প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি তাঁর কন্যা ওয়াংমো ডিক্সের বৌদ্ধধর্মীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং বৌদ্ধ শিক্ষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকারও প্রশংসা করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
আলোচনায় লাদাখের বিভিন্ন গুম্ফা, ধর্মীয় সংগঠন এবং বৃহত্তর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। আসন্ন অনুষ্ঠানগুলো সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ের জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ভদন্ত ভিক্ষু সংঘসেনা বুদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার এবং শান্তি, করুণা, প্রজ্ঞা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ধর্মীয় আয়োজনে লাদাখের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অধিকতর অংশগ্রহণ আধ্যাত্মিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বুদ্ধের শিক্ষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।
সভায় অল লাদাখ গোনপা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, লাদাখ বৌদ্ধ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নাংপে ছোস্কুল ছোগস্পা এবং স্কিয়াংচাক ছোস্কুল ছোগস্পার সভাপতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পদ্মশ্রী মরুপ নামগিয়াল, সাবেক বিধায়ক ত্সেরিং সামফেলসহ এমআইএমসির জ্যেষ্ঠ সদস্যরা সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ব্যক্তিরা লাদাখের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ধর্মীয় আয়োজনে বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে চা-চক্রের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আরো পড়ুন>>: আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ধর্মীয় আয়োজনে লাদাখের অংশগ্রহণ বাড়াতে এমআইএমসিতে আলোচনা