বুদ্ধবার্তা ডেস্ক: বুদ্ধের বাণী ও বৌদ্ধ শাস্ত্রকে আন্তর্জাতিক পাঠক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে আরও সহজলভ্য করতে ইংরেজি ভাষায় ত্রিপিটক প্রকাশের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে থাইল্যান্ড। দেশটির সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ প্রকল্পে ৪৫টি খণ্ডে মোট ২১ হাজার ৯৪১ পৃষ্ঠার ত্রিপিটক প্রকাশ করা হবে। এর পাশাপাশি মুদ্রিত সংস্করণের সঙ্গে ই-বুকও প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে ইংরেজি ত্রিপিটক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী সুপাজি সুথুমপুন। বৈঠকে দেশটির সংঘের প্রতিনিধিসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ইতোমধ্যে সম্পন্ন তিন খণ্ড
থাই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ত্রিপিটকের অনুবাদ ও প্রুফরিডিংয়ের কাজ এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত তিনটি খণ্ড বইয়ের আকারে প্রস্তুত হয়েছে। ত্রিপিটকের তিনটি প্রধান বিভাগের প্রতিটি থেকে একটি করে খণ্ড সম্পন্ন করা হয়েছে।

পরিকল্পিত ৪৫ খণ্ডের মধ্যে থাকবে—
| বিভাগ | প্রস্তাবিত খণ্ড |
|---|---|
| বিনয় পিটক | ৮ |
| সুত্ত পিটক | ২৫ |
| অভিধর্ম পিটক | ১২ |
| মোট | ৪৫ |
প্রকল্পের মোট পরিধি ২১ হাজার ৯৪১ পৃষ্ঠা। সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলে ইংরেজি সংস্করণটি মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক আকারেও পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ
ইংরেজি ত্রিপিটক প্রকল্পটি থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ধর্মবিষয়ক দপ্তর, দেশটির সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিল এবং ন্যাশনাল অফিস অব বুদ্ধিজমের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পের অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনার কাজে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে।
সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিলের সদস্য ও ব্যাংককের ওয়াত প্রযুরাওংসাওয়াতের অধ্যক্ষ ফ্রা ব্রহ্মপণ্ডিত প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানকারী উপকমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তী পর্যায়ে অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদকীয় কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে ইংরেজি ত্রিপিটক প্রস্তুত, অনুবাদ এবং সম্পাদনার জন্য পৃথক তিনটি উপকমিটি গঠনের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ শাস্ত্র অধ্যয়নে নতুন সুযোগ
থাইল্যান্ডের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো বুদ্ধের শিক্ষাকে থাই ও আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া। ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বৌদ্ধধর্মে আগ্রহী মানুষের জন্য ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু অধ্যয়ন ও গবেষণার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সঙ্গে শিক্ষামূলক উপকরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু অনুবাদ প্রকাশ করা নয়; বরং পাঠকদের ত্রিপিটক অধ্যয়ন এবং বুদ্ধের শিক্ষাকে যথাযথভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি করা।
২০১৯ সালে শুরু হয় প্রকল্প
ইংরেজি ত্রিপিটক অনুবাদ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৯ সালে। থাইল্যান্ডের রাজা মহা বজিরালংকর্ণের অভিষেক এবং বৌদ্ধধর্মের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁর ঘোষণাকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি শুরু করা হয়।
২০২৪ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ১৯তম জাতিসংঘ বৈশাখ দিবসের ঘোষণাতেও থাইল্যান্ডের এই ত্রিপিটক অনুবাদ প্রকল্পের প্রতি প্রশংসা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় প্রকল্পটির আওতায় পালি ত্রিপিটকের সম্পূর্ণ ৪৫ খণ্ড ইংরেজিতে অনুবাদের উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।
ত্রিপিটককে থেরবাদ বৌদ্ধধর্মের প্রধান শাস্ত্রসংগ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘ত্রিপিটক’ শব্দের অর্থ ‘তিন ঝুড়ি’ বা তিনটি প্রধান সংকলন। এগুলো হলো বিনয় পিটক, যেখানে ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের শাসন ও সংঘজীবনের বিধান রয়েছে; সুত্ত পিটক, যেখানে বুদ্ধ ও তাঁর প্রধান শিষ্যদের বিভিন্ন ধর্মদেশনা সংকলিত; এবং অভিধর্ম পিটক, যেখানে বুদ্ধের শিক্ষার বিশদ ও পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ রয়েছে।
থাইল্যান্ডের এই উদ্যোগ সম্পন্ন হলে পালি ত্রিপিটকের একটি বৃহৎ ইংরেজি সংস্করণ আন্তর্জাতিক পাঠক ও গবেষকদের জন্য আরও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে। একই সঙ্গে মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল সংস্করণ চালুর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রিপিটক অধ্যয়নের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন>>: আন্তর্জাতিক পাঠকের জন্য ইংরেজিতে ৪৫ খণ্ডের ত্রিপিটক প্রকাশের উদ্যোগ থাইল্যান্ডের- শ্রীলঙ্কায় প্রথম আন্তর্জাতিক যুব বৌদ্ধ ফেলোশিপ, আবেদন আহ্বান
- ওয়াশিংটনে নতুন স্থায়ী ঠিকানা পেল থেরবাদ বৌদ্ধ সম্প্রদায়
- প্রতিবন্ধীদের জন্য সাশ্রয়ী রোবোটিক হাত, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন লাবলু বড়ুয়া
- Full Funded Research Placement in Spain for Bachelor’s and MSc Students – CRG 2027
- GKS Undergraduate Scholarship 2027: Fully Funded Study Opportunity in South Korea