নেপালের রাষ্ট্রপতির সাথে ‘ওয়াক ফর পিস’ সংঘের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ওয়াক ফর পিস (Walk for Peace) বা বিশ্ব শান্তি পদযাত্রা উপলক্ষে নেপালে অবস্থানরত সংঘের প্রতিনিধি দল ১৫ জুন ২০২৬ নেপালের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল এবং ফার্স্ট লেডির সাথে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। তথাগত বুদ্ধের পবিত্র জন্মভূমি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুস্থ রাষ্ট্রপতির বাসভবনে আয়োজিত এই সাক্ষাৎটি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার চলমান এই মহতী কার্যক্রমের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সাক্ষাৎকারে সংঘের পক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অস্থিরতা নিরসনে বুদ্ধের অহিংসার বাণী প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

নেপালের রাষ্ট্রপতির সাথে ‘ওয়াক ফর পিস’ সংঘের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আমাদের সহযোগীতা করার জন্য ধন্যবাদ

ওয়াক ফর পিস সংঘের প্রতিনিধি দল শান্তির বার্তা নিয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে

প্রশান্তি ও মুক্তির ধারক, ভগবান বুদ্ধের স্মৃতিধন্য নেপাল ভূমিতে সংঘের এই পদযাত্রা নিছক কোনো পরিভ্রমণ নয়, বরং এটি আধুনিক বিশ্বে বৌদ্ধ দর্শনের শান্তির বাণী প্রচারের একটি মহান উদ্যোগ। রাষ্ট্রপতির বাসভবনে আয়োজিত এই সৌজন্য সাক্ষাতকারে ওয়াক ফর পিস এর সদস্য ভদন্ত পঞ্ঞাকারা (Venerable Paññākāra) এবং সংঘের প্রতিনিধিগণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে বিশ্বশান্তি, মানবিক মূল্যবোধ এবং তাদের এই দীর্ঘ পদযাত্রার উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক ও গভীর আলোচনা করেন। আধুনিক পৃথিবীতে যখন সংঘাত এবং বিভেদ প্রকট হয়ে উঠছে, তখন গৌতম বুদ্ধের সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শই যে একমাত্র মুক্তির পথ—তা এই আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং ফার্স্ট লেডি অত্যন্ত আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার সাথে সংঘের প্রতিনিধিদের গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল একটি দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংঘের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি সমগ্র বৌদ্ধ সমাজের জন্য একটি গৌরবময় স্বীকৃতি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংঘের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং নেপালের ভূমিতে তাদের এই শান্তি যাত্রার সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সংঘের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রপতির বাসভবনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিনিধিগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনিময় বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সদিচ্ছা প্রসারে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যখন মানুষ শান্তির সন্ধানে ব্যাকুল, তখন সংঘের এই পদযাত্রা মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

বিশ্ব শান্তির এই পদযাত্রা যেন সকল প্রাণী জগতের জন্য হিতকর হয় এবং সারা বিশ্বে মৈত্রী ও করুণার বার্তা ছড়িয়ে দেয়—এই কামনায় সংঘের সদস্যরা ধর্মীয় প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন। এটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং শান্তি ও সম্প্রীতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অঙ্গীকার ছিল।

আরো পড়ুন>>: নেপালের রাষ্ট্রপতির সাথে ‘ওয়াক ফর পিস’ সংঘের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সংরক্ষিত!!