স্পেন বনাম পেরু: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ফুটবলপ্রেমীদের রোমাঞ্চ বাড়িয়ে দিতে মাঠে নামছে ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেন এবং দক্ষিণ আমেরিকান দল পেরু। শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনের জন্য এটি বিশ্বমঞ্চে নামার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ। অন্যদিকে, পেরুর লক্ষ্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের নতুন করে চাঙ্গা করা। বিশ্বকাপের আবহে এই প্রীতি ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় চলছে নানা সমীকরণ।
স্পেন বনাম পেরু ম্যাচের সময় ও ভেন্যু
- তারিখ: ৯ জুন, ২০২৬ (মঙ্গলবার)
- বাংলাদেশ সময়: সকাল ৮:০০ টা
- ভেন্যু: এস্তাদিও কুয়াহতেমোক, পুয়েবলা, মেক্সিকো।
যেসব টিভি বা সোর্সে দেখা যাবে
বাংলাদেশে খেলাটি সরাসরি কোনো লোকাল টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার না করলেও নিচের সোর্সগুলোর মাধ্যমে দেখা যাবে:
- অনলাইন স্ট্রিমিং ও অ্যাপস: Fubo TV, ViX, এবং Paramount+ (ভিপিএন এবং সাবক্রিপশন সাপেক্ষে)।
- টিভি চ্যানেল (আন্তর্জাতিক): FS2 (Fox Sports 2), Movistar Plus+।
- স্পেশাল: Crickfy TV
লাইভ স্কোর দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
ফিফা র্যাংকিং ও সবচেয়ে বড় অর্জন: স্পেন বনাম পেরু
| বৈশিষ্ট্য | স্পেন (Spain) | পেরু (Peru) |
| ফিফা র্যাংকিং | শীর্ষ ১০-এর মধ্যে (অন্যতম বিশ্বসেরা) | শীর্ষ ৪০-এর আশেপাশে |
| সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন | ১ বার বিশ্বকাপ জয় (২০১০) এবং ৪ বার ইউরো চ্যাম্পিয়ন | ২ বার কোপা আমেরিকা জয় (১৯৩৯, ১৯৭৫) এবং বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৭০) |
হেড-টু-হেড (Head-to-Head) পরিসংখ্যান
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভিন্ন মহাদেশের হওয়ায় দল দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব বেশি মুখোমুখি হয়নি। এখন পর্যন্ত হওয়া ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান স্পেনের পক্ষে কথা বলে:
- মোট ম্যাচ: ৩টি
- স্পেনের জয়: ৩টি
- পেরুর জয়: ০টি
- ড্র: ০টি
- স্পেনের করা গোল: ৫টি
- পেরুর করা গোল: ১টি
আগের ম্যাচের ফলাফল
- ১৯৬০ (প্রীতি ম্যাচ): পেরু ১ – ৩ স্পেন
- ২০০৪ (প্রীতি ম্যাচ): স্পেন ২ – ১ পেরু
- ২০০৮ (প্রীতি ম্যাচ): স্পেন ২ – ০ পেরু
উভয় দলের শক্তির জায়গা ও দুর্বলতা
স্পেন (La Roja)
- শক্তির জায়গা: দলটির মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সমন্বয় চমৎকার। তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল এবং পেদ্রিদের মতো ফুটবলাররা যেকোনো রক্ষণভাগ ভেঙে দিতে পারেন। বল পজেশন ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলার ঐতিহ্যবাহী ‘টিকি-টাকা’ শৈলী এখনও তাদের মূল অস্ত্র।
- দুর্বলতা: মাঝেমাঝেই অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, যা প্রতিপক্ষ কাউন্টার-অ্যাটাকে কাজে লাগাতে পারে। এছাড়া বড় টুর্মাণের আগে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা মাঝেমধ্যে ভোগায় তাদের।
পেরু (La Blanquirroja)
- শক্তির জায়গা: দলটির প্রধান শক্তি তাদের শারীরিক ফুটবল এবং রক্ষণাত্মক জমাটবদ্ধতা। কাউন্টার-অ্যাটাকে তারা বেশ দারুণ খেলে। এছাড়া হাইতির বিপক্ষে সাম্প্রতিক ২-১ গোলের জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
- দুর্বলতা: পেরুর প্রধান সমস্যা নিয়মিত গোল করার লোকের অভাব। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে তাদের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল না। দলে অভিজ্ঞ এবং তরুণদের মধ্যে ভারসাম্যের কিছুটা অভাব রয়েছে।
স্পেন বনাম পেরু: সম্ভাব্য একাদশ
বিশ্বকাপের ঠিক আগের ম্যাচ হওয়ায় স্পেন তাদের মূল একাদশ নিয়ে পরীক্ষা-পরীক্ষা চালাতে পারে, তবে শুরুর দিকে শক্তিশালী দল নামানোর সম্ভাবনাই বেশি।
স্পেন (৪-৩-৩): উনাই সিমন (গোলরক্ষক), কারভাহাল, লে নরম্যান্ড, লাপোর্তে, গ্রিমালদো, রদ্রি, পেদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও আলভারো মোরাতা।
পেরু (৩-৫-২): পেড্রো গালেসে (গোলরক্ষক), কার্লোস জামব্রানো, লুইস আদভিনকুলা, আলোনসো, رেনাতো তাপিয়া, ইয়োশিমার ইয়োতুন, জাইরো ভেলেজ, পলো, কুইলিস, জিয়ানলুকা লাপাডুলা ও পাওলো গেরেরো।
কাগজে-কলমে এবং অতীতের হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানে স্পেন ১০০% জয়ের রেকর্ড নিয়ে পরিষ্কার ব্যবধানে ফেবারিট। তবে পেরুর মতো লড়াকু লাতিন আমেরিকান দল স্প্যানিশ আর্মাডাকে বেশ ভালোই পরীক্ষা করতে পারে। স্পেনের লক্ষ্য থাকবে ইনজুরি এড়িয়ে বড় জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে পা রাখা, আর পেরু চাইবে দীর্ঘ ১৮ বছর পর মুখোমুখি হয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আটকে দিয়ে বড় কোনো চমক দেখাতে।
আরো পড়ুন>>: বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি: স্পেন বনাম পেরু দ্বৈরথ