যুক্তরাষ্ট্রের বৌদ্ধ মঠে আগুন: সন্দেহভাজন নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি কাউন্টির বিখ্যাত ‘তাসাজারা জেন মাউন্টেন সেন্টার’-এ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এশিয়ার বাইরে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে প্রাচীন এই জেন বৌদ্ধ মঠ প্রাঙ্গণে গত ২৭ মার্চ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মন্টেরি কাউন্টির শেরিফ কার্যালয় গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ এলাকার বাসিন্দা ফিওনা গুওগুও লু নামের ওই নারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো তদন্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জেন বৌদ্ধ মঠে আগুন: সন্দেহভাজন নারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের জেন বৌদ্ধ মঠে আগুন: সন্দেহভাজন নারী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জেন বৌদ্ধ মঠ ও অন্যান্য মন্দিরে হামলার হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টেরি কাউন্টির শেরিফ কার্যালয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রেস রোসাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন: “মিস লু-এর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করা বিষয়গুলোর মধ্যে দেখা গেছে, তিনি তাসাজারা জেন সেন্টারে ঘটে যাওয়া ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। একই সাথে আমরা মনে করছি, ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য জেন বৌদ্ধ মঠ এবং বৌদ্ধ মন্দিরের ক্ষতি করার জন্য তিনি যে হুমকিগুলো দিয়েছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক।”

অভিযুক্ত লু বর্তমানে অন্য একটি মামলায় নাপা কাউন্টি জেলে আটক রয়েছেন এবং তাঁকে মন্টেরি কাউন্টিতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, অপরাধমূলক হুমকি এবং গুরুতর জাতিগত বিদ্বেষমূলক অপরাধের (Hate Crime) অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

এই ঘটনায় মন্টেরি কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেকে যেন কোনো ধরনের ভয়, সহিংসতা বা হুমকি ছাড়া নিজ নিজ धर्मীয় আচার পালন করতে পারেন—তা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্বেষমূলক বা পক্ষপাতদুষ্ট যেকোনো অপরাধের অভিযোগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।”

আগুনে পুড়ে ছাই ঐতিহাসিক ধ্যানকক্ষ

সান ফ্রান্সিসকো জেন সেন্টার দ্বারা পরিচালিত এই তাসাজারা জেন বৌদ্ধ মঠ লস পাদ্রেস ন্যাশনাল ফরেস্টের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। ১৯৬৭ সালে বিখ্যাত জেন গুরু শুনরিউ সুজুকি এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা পাশ্চাত্যে জাপানি জেন সাধনা বিস্তারে দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকা রাখছে।

গত মার্চের এই অগ্নিকাণ্ডে মঠের ঐতিহ্যবাহী কাঠের প্রধান ধ্যানকক্ষ বা ‘জেন্দো’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং লাইব্রেরির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গভীর রাতে যখন আগুন লাগে, তখন মঠের বাসিন্দারা তাঁদের তিন মাসের দীর্ঘ শীতকালীন সাধনার (Retreat) শেষ পর্যায়ে ছিলেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের কারণে দমকল বাহিনীর পৌঁছাতে দেরি হলেও, মঠের বাসিন্দারা দ্রুত নিজেদের পাইপ, বালতি এবং স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন।

তাসাজারা জেন মাউন্টেন সেন্টারের এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়: “পোড়া কাঠ, ঝলসে যাওয়া ধাতু, ধূসর ছাই আর শূন্য স্থান—১৯৭৮ সাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পবিত্র স্থাপনাটির এখন কেবল এটুকুই অবশিষ্ট আছে।”

ক্ষয়ক্ষতির মাঝেও মঠপ্রধানের করুণার বার্তা

এই কঠিন পরিস্থিতিতেও বুদ্ধের শিক্ষার আলোকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মঠের প্রধান (অ্যাবট) ডেভিড জিমারম্যান। গত ২ জুন এক বিবৃতিতে তিনি বলেন: “যদিও এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদ, তবুও বোধিসত্ত্ব পথকে ধারণ করার যে সংকল্প আমাদের রয়েছে, তা-ই আমাদের শক্তি জোগাচ্ছে। জেন্দো পুড়ে যাওয়ার পেছনের কারণ ও পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তা আমরা প্রজ্ঞা, মৈত্রী এবং করুণা দিয়ে মোকাবিলা করব।”

শেরিফ কার্যালয় থেকে মঠের কর্মী ও অগ্নিনির্বাপক দলের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা জানান, প্রতিকূল অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হলেও সবার সাহসিকতায় আগুন চারপাশের বনাঞ্চলে ছড়াতে পারেনি।

আরো পড়ুন>>: যুক্তরাষ্ট্রের বৌদ্ধ মঠে আগুন: সন্দেহভাজন নারী গ্রেপ্তার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *