পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: বিশ্বকে রক্ষার আহ্বান

পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: পাকিস্তানে সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন হলো ‘থার্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন দ্য বুড্ডিস্ট হেরিটেজ অব পাকিস্তান’ বা পাকিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংক্রান্ত তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “বহুমাত্রিক গবেষণার মাধ্যমে পাকিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সন্ধান”। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন, গন্ধারার এই অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষা করা কেবল পাকিস্তানের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি বৈশ্বিক বাধ্যবাধকতা।

পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: বিশ্বকে রক্ষার আহ্বান
আমাদের সাপোর্ট করার জন্য ধন্যবাদ

গন্ধারা সভ্যতার পুনর্জাগরণ ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব

পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিস্টিক বুদ্ধিজম রিসার্চ সেন্টার (HBRC), মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর এবং সিল্ক রোড সেন্টার। এতে সহযোগিতা করেছে ফোগুয়াং শান এডুকেশন সেন্টার এবং পাকিস্তান ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গন্ধারার বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপির প্রখ্যাত গবেষক ড. স্টিফান বাউমস। তিনি এশিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক, শৈল্পিক এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে গন্ধারা সভ্যতার অবদান তুলে ধরেন। কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক জাফর নওয়াজ জাসপাল এবং এইচবিআরসি (HBRC)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. গনি উর রহমান তাদের বক্তব্যে এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

সিল্ক রোড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ড. ইজলাল হুসাইন জানান, ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের প্রতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সম্মেলনে পাকিস্তান ও বিদেশের ৩৬ জনেরও বেশি বিশিষ্ট গবেষক ও পণ্ডিত অংশ নেন, যেখানে অধ্যাপক রিচার্ড সলোমন গন্ধারার বৌদ্ধ পাণ্ডুলিপির ওপর তার ৩০ বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

সমাপনী বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আওরঙ্গজেব খান খিচি বলেন: “যখন পৃথিবী বিভেদ ও সংঘাতে জর্জরিত, তখন গন্ধারার এই ঐতিহ্য আমাদের সহনশীলতা, সহাবস্থান এবং শান্তির বার্তা মনে করিয়ে দেয়।”

খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মৌর্য সম্রাট অশোকের শাসনকাল এবং পরবর্তী গ্রেকো-বৌদ্ধ সংস্কৃতির হাত ধরে বর্তমান পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্ম এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল। গন্ধারার এই প্রাচীন স্তূপ, মঠ এবং বুদ্ধমূর্তিগুলো আজ ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সাক্ষ্য বহন করছে।

আরো পড়ুন>>: পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: বিশ্বকে রক্ষার আহ্বান

2 thoughts on “পাকিস্তানে বৌদ্ধ ঐতিহ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন: বিশ্বকে রক্ষার আহ্বান

  1. I was born in Karachi, Pakistan.I know, Pakistan have many Buddhist historical places.So,I like to know more about Pakistan Buddhist historical places and like to spread Buddhism in Pakistan.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপিরাইট সংরক্ষিত!!