নেপালের বুদ্ধ মূর্তি প্রায় ৪০ বছর পর অবশেষে নিজ গৃহে ফিরেছে। ১৩শ শতাব্দীর এই ঐতিহাসিক বুদ্ধ মূর্তিটি বহু বছর আগে কাঠমান্ডুর ওম বাহাল এলাকা থেকে চুরি হয়েছিল। সম্প্রতি এটি পুনরুদ্ধার করে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর বাজ্রধাতু বিহারে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এই ঘটনা নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুদ্ধ জয়ন্তীর ২৫৭০তম উদযাপনের অংশ হিসেবে মূর্তিটি পুনরায় তার মূল স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া এই মূর্তিটি পরে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয় এবং ২০২২ সালে নেপালের জাতীয় জাদুঘরে পাঠানো হয়। এরপর ঐতিহ্য রক্ষাকারী কর্মী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জাদুঘর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি হনুমানঢোকা প্যালেস মিউজিয়ামে আনা হয়।

নেপালের বুদ্ধ মূর্তি ফিরিয়ে আনায় উচ্ছ্বাস
ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী গণপতি লাল শ্রেষ্ঠ বলেন, “এত দীর্ঘ সময় পর মূর্তিটিকে তার আসল স্থানে পুনঃস্থাপন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।” তিনি জানান, মূর্তিটি হারিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় উপাসকরা মূল বেদিতে একটি প্রতিরূপ স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
এই নেপালের বুদ্ধ মূর্তি বিশ্বের অবৈধ সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাচারের একটি বড় উদাহরণ। মূর্তিটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ‘তিব্বত হাউস ইউএস’-এর শিল্প সংগ্রহে পাওয়া যায়। পরে এটি নেপাল সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মূর্তিটি শহরের পথে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যবাহী নেওয়া পোশাক পরিধান করেন এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দ মিছিল করেন। স্থানীয় এক ভক্ত সুনকেসারি শাক্য বলেন, “আমাদের দেবতা ফিরে আসছে। আমি এবং আমরা সবাই ভীষণ খুশি।”
অনুষ্ঠানে নেপাল সরকারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সার্জিও গরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা অতীতের একটি ভুল শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিংশ শতাব্দীতে নেপাল থেকে চুরি হওয়া বহু নিদর্শন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে পাওয়া গেছে।
নেপালের জাতীয় জাদুঘর জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ফিরিয়ে আনা ১৩৭টি সাংস্কৃতিক নিদর্শন রয়েছে, যেগুলো ধীরে ধীরে তাদের আসল স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১২টি নিদর্শন নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জাতীয় জাদুঘরের প্রধান অরুণা নাকার্মি জানান, মূর্তিটি সাময়িকভাবে জাদুঘরের বুদ্ধ আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছিল। সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র পুরি বলেন, “আমাদের মূর্তিগুলো শুধু শিল্পকর্ম নয়, এগুলো জীবন্ত ঐতিহ্যের অংশ।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল চুরি হওয়া ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন পুনরুদ্ধারে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০০টির বেশি নিদর্শন বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখনও হাজার হাজার ঐতিহ্যবাহী বস্তু বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে।
আরো পড়ুন>>