যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেন্ডোসিনো কাউন্টিতে ২২ দশমিক ৬ মিটার উচ্চতার একটি ঐতিহ্যবাহী তিব্বতি বৌদ্ধমন্দির নির্মাণের অনুমোদন চেয়েছে বৌদ্ধ ধর্মীয় ও ধ্যানচর্চা কেন্দ্র রাংজুং ইয়েশে গোমদে ক্যালিফোর্নিয়া। প্রস্তাবিত মন্দিরটি নির্মিত হলে তা ওই এলাকার আবাসিক অঞ্চলে প্রচলিত ভবনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত উচ্চতার দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
গত ১৫ অক্টোবর মেন্ডোসিনো কাউন্টির পরিকল্পনা কমিশনে মন্দির নির্মাণের জন্য বিশেষ জোনিং ছাড়পত্রের বিষয়টি বিবেচনার জন্য নির্ধারিত ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলের লেগেট নামের একটি গ্রামীণ জনপদের কাছে মন্দিরটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত মন্দিরটির উচ্চতা হবে ২২ দশমিক ৬ মিটার। অথচ সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ভবনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত উচ্চতা ১০ দশমিক ৭ মিটার। তবে কাউন্টির পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা জমির ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমির উচ্চতা-নিম্নতা, চারপাশের বনভূমি এবং আশপাশের বসতবাড়ি থেকে দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটির অনুমোদনের সুপারিশ করেছেন।
রাংজুং ইয়েশে গোমদে ক্যালিফোর্নিয়া তিব্বতি বৌদ্ধ শিক্ষক ছোকি নিয়িমা রিনপোছের আধ্যাত্মিক নির্দেশনায় পরিচালিত একটি বৌদ্ধ শিক্ষা ও সাধনাকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ছোকলিং তেরসার পরম্পরার শিক্ষা অনুসরণ করে। এখানে বৌদ্ধ দর্শন, ধ্যান এবং বজ্রযান বৌদ্ধধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও অনুশীলনের আয়োজন করা হয়।
প্রস্তাবিত মন্দিরটি যুক্তরাষ্ট্রের হাইওয়ে ১০১ এবং স্টেট রুট ২৭১-এর কাছাকাছি কয়েকটি ভূমিখণ্ডে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমির পরিমাণ প্রায় ১৬ হেক্টর। তবে গোমদের সামগ্রিক সম্পত্তি প্রায় ১০১ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত, যেখানে বনভূমি, তৃণভূমি এবং ইল নদীর তীরবর্তী উঁচু ভূমি রয়েছে।

মেন্ডোসিনো কাউন্টির পরিকল্পনাবিদ ম্যাট গোইনস জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট জমিতে ধর্মীয় সমাবেশ ও উপাসনাকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল আপত্তির বিষয় ভবনের উচ্চতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ভবনটির উচ্চতা প্রচলিত সীমার মধ্যে থাকলে সাধারণ ভবন নির্মাণের অনুমতিতেই প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ ছিল।
কাউন্টির পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত মন্দিরটি আশপাশের পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য দৃশ্যমান প্রভাব ফেলবে না। কারণ, মন্দিরটি চারপাশের পাহাড়ঘেরা একটি তৃণভূমিতে নির্মিত হবে এবং নিকটবর্তী আবাসিক ভবনগুলো থেকে এর দূরত্ব ৩০৫ মিটারেরও বেশি। পাশাপাশি ওই এলাকার পরিণত গাছগুলোর উচ্চতা ৩০ দশমিক ৫ মিটারের বেশি হওয়ায় মন্দিরটি আশপাশের বনভূমির সঙ্গে অনেকটাই মিশে থাকবে।
প্রকল্পটির প্রতি স্থানীয় ও বাইরের মানুষের উল্লেখযোগ্য সমর্থনও পাওয়া গেছে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া একটি সমর্থনপত্রে ৩৬ জনের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনাবিদ ম্যাট গোইনস বলেন, প্রকল্পটির পক্ষে এত মানুষের সমর্থন দেখে কাউন্টি কর্মকর্তারাও বিস্মিত হয়েছেন। স্থানীয় ও স্থানীয় এলাকার বাইরের অনেক মানুষ এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে, মন্দির ও বৌদ্ধকেন্দ্রটির সম্প্রসারণ লেগেট এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ছোট এই গ্রামীণ জনপদে নতুন বিনিয়োগ, দর্শনার্থীদের আগমন এবং স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গোইনস।
উল্লেখ্য, ছোকি নিয়িমা রিনপোছে ১৯৯৮ সালে গোমদে ক্যালিফোর্নিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে বৌদ্ধধর্মবিষয়ক রিট্রিট, একাডেমিক কার্যক্রম, ধ্যান প্রশিক্ষণ এবং তিব্বতি বৌদ্ধ শিক্ষকদের বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একটি বৃহত্তর বৌদ্ধ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ও রয়েছে। এতে আবাসন, শ্রেণিকক্ষ, খাবারের ব্যবস্থা এবং প্রায় ৪০০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৌদ্ধমন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সূত্র: The Press Democrat ও Mendocino Voice।