ত্‌জু চি ফাউন্ডেশন ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করল বিশ্বজুড়ে

ত্‌জু চি ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে তাদের প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। তাইওয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজারো মানুষ সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন এই আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মানবিক আয়োজনে। বুদ্ধ পূর্ণিমা, মা দিবস এবং ত্‌জু চি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বিশ্বশান্তি, সহমর্মিতা ও মানবসেবার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

ত্‌জু চি ফাউন্ডেশন ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করল বিশ্বজুড়ে

তাইওয়ানভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মানবিক সংগঠন Buddhist Tzu Chi Foundation জানায়, ১৯৬৬ সালে মাত্র ৩০ জন গৃহিণীকে নিয়ে প্রতিদিন ৫০ তাইওয়ান সেন্ট সঞ্চয়ের মাধ্যমে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, আজ তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৌদ্ধ দাতব্য সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা Dharma Master Cheng Yen-এর নেতৃত্বে তাইওয়ানের Hualien County-এ অবস্থিত জিং সি হলে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। এখানেই ১৯৬৬ সালে ত্‌জু চি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্থাটির দাতব্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবিক সংস্কৃতি বিভাগের হাজারো স্বেচ্ছাসেবক।

ত্‌জু চি ফাউন্ডেশনের ৬০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান

পরে রাজধানী Taipei-এর Chiang Kai-shek Memorial Hall-এ অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। “২০২৬ বুদ্ধ জন্মজয়ন্তী স্নান অনুষ্ঠান ও পিতৃমাতৃ কৃতজ্ঞতা আশীর্বাদ সভা”-তে বিভিন্ন বৌদ্ধ ধারার ধর্মগুরু, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী, স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বুদ্ধ স্নান অনুষ্ঠান। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। আয়োজকরা বলেন, ছোট ছোট দয়ার কাজ একত্রিত হলে বিশ্বকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

বর্তমানে ত্‌জু চি ফাউন্ডেশন বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভূমিকম্প, বন্যা, শরণার্থী সংকট এবং COVID-19 মহামারির সময় সংস্থাটির ত্রাণ ও সেবামূলক কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া তারা হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে।

অনুষ্ঠানে ত্‌জু চি ফাউন্ডেশনের তিনটি মূল প্রার্থনাও উচ্চারণ করা হয়—
“সব মানুষের হৃদয় পবিত্র হোক,
সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক,
এবং বিশ্ব দুর্যোগমুক্ত হোক।”

প্রতিষ্ঠাতা ধর্মগুরু চেং ইয়েন বলেন, প্রকৃত করুণা শুধু সহানুভূতির অনুভূতি নয়; বরং মানুষের দুঃখ লাঘবে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যেই সত্যিকারের মানবিকতা প্রকাশ পায়।

তাইওয়ানে Dharma Master Cheng Yen-কে বৌদ্ধধর্মের “চার স্বর্গীয় রাজা”-র একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্য তিনজন হলেন Master Sheng Yen, Master Hsing Yun এবং Master Wei Chueh। তাদের প্রতিষ্ঠিত চারটি বৃহৎ বৌদ্ধ সংগঠন আজ বিশ্বব্যাপী চীনা বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রভাবশালী ধারায় পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *