জাপানের বৌদ্ধ বিহারে রেইকাদো হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঐতিহাসিক উপাসনালয়টি ধ্বংস হলেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছে ১২০০ বছরের পুরোনো ‘চিরন্তন শিখা’। জাপানের পবিত্র মিয়াজিমা দ্বীপে অবস্থিত এই বৌদ্ধ মন্দিরটি বহু শতাব্দী ধরে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে আসছে।
গত ২১ মে সকালে হিরোশিমা প্রিফেকচারের মাউন্ট মিসেনের চূড়ার কাছে অবস্থিত কাঠের তৈরি ঐতিহাসিক রেইকাদো হলে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো স্থাপনাটিকে গ্রাস করে ফেলে এবং ভবনের অধিকাংশ অংশ ছাইয়ে পরিণত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রেইকাদো হলের ‘চিরন্তন শিখা’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
রেইকাদো হলের তত্ত্বাবধায়ক দাইশো-ইন জাপানের বৌদ্ধ বিহারে কর্তৃপক্ষ জানায়, বহু প্রতীক্ষিত ‘চিরন্তন শিখা’ সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, নবম শতকের বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু কুকাই—যিনি কোবো দাইশি নামেও পরিচিত—এই পবিত্র আগুন প্রজ্বলন করেছিলেন। এরপর থেকে টানা ১২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিখাটি জ্বলছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা অসংখ্য সহানুভূতির বার্তা পেয়েছি। সবার উদ্বেগ ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।” একইসঙ্গে তারা দ্রুত মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করার কথাও ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটি রেইকাদো হলের দ্বিতীয় বড় অগ্নিকাণ্ড। এর আগে ২০০৫ সালে টাইফুন পরবর্তী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় দুর্ঘটনাবশত আগুন লেগে মন্দিরটি পুড়ে যায়। পরে সেটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানায়, পাহাড়চূড়ার দুর্গম অবস্থানের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়। দমকল কর্মীদের পাহাড়ের নিচ থেকে দীর্ঘ পাইপ টেনে পানি সরবরাহ করতে হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
মাউন্ট মিসেন জাপানের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৩৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই পাহাড় মিয়াজিমা বা ইৎসুকুশিমা দ্বীপের অংশ। দ্বীপটি শিন্তো ও বৌদ্ধ—উভয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানেই রয়েছে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ইৎসুকুশিমা মন্দির।
জাপানি বৌদ্ধধর্মে ‘চিরন্তন শিখা’ গভীর আধ্যাত্মিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। ঐতিহ্য অনুযায়ী, এই আগুনে ফুটানো পানি রোগমুক্তি ও সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়।
বর্তমানে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করছে জাপানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ঐতিহাসিক উপাসনালয় ধ্বংস হলেও পবিত্র শিখাটি রক্ষা পাওয়ায় জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
আরো পড়ুন>>: জাপানের বৌদ্ধ বিহারে আগুন: ১২০০ বছরের বিহার ধ্বংস- জার্মানিতে বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন, চলছে নিবন্ধন
- বাবৌযুপ-উখিয়ার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
- গ্রিন কার্ড আবেদন: অস্থায়ী ভিসাধারীদের নিজ দেশে ফেরার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের
- অস্ট্রিয়ায় বৌদ্ধধর্ম ও AI নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
- Buddhist-Christian studies conference 2026: Registration Opens in Hamburg
- 84000 Buddhist Knowledge Archive Launches New Global Website