চর্যাপদের সমাজ ও আজকের সমাজ

  • সম্পাদকীয়-

বাঙালীর বয়স এক হাজার বছর। তাহলে এখন বাংলা সাল হয় ১০০০ বঙ্গাব্দ। কিন্তু এখন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (২০২২ ইংরেজি)। তাহলে ৪২৮ বছর ( ১৪২৮-১০০০ ) বেশতি কোত্থেকে পাওয়া গেল? বাংলা সালের জন্ম হয়েছে আগে এবং পরে জন্ম হয়েছে বাঙালীর, সেটা তো মনে হয় ঘটনা নয়। এ ক্ষেত্রে সাল গণনায় কোন গাণিতিক যোগ বিয়োগ হয়ত আছে, আমি সে প্রশ্নে যাচ্ছি না। ইংরেজী সাল ধরে এগুলে দেখা যাচ্ছে দশম-একাদশ শতাব্দীর দিকেই বাঙালীর পদযাত্রা শুরু হয়েছে।

এ সময়টা মোটামুটি চর্যাপদের রচনাকাল। চর্যাপদ থেকেই বাঙালীর শুরু- এ কথাই এখন পর্যন্ত স্থির করা আছে। চর্যাপদ রচনার পর হাজার বছর কেটে গেছে। হাজার বছর অনেক সময়। বর্তমান পাকিস্তান, ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশ নিয়ে গঠিত অবিভক্ত ভারতে হাজার বছর বৌদ্ধ ধর্ম প্রবল ধর্ম হিসেবে বিরাজ করে আজ এখানে তা বিলীন হয়েছে। হাজার বছরে এসব অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমারেখা-কাঠামো ভাংচুর হয়েছে। কত পরিবর্তন হয়েছে তার সব খবর কি আমরা রাখি?

বই-পুস্তকে আমরা যা পড়ি তা মোটাদাগের কথা, রাজ-রাজড়ার কথা। সেখানে জনসাধারণের খবর খুবই কম। সমাজের পরিবর্তনের কথা খুব কম। মানুষের ধর্ম বিশ্বাসের কথা খুব কম। যুদ্ধবিগ্রহের খবর আছে। এক রাজা ক্ষমতা থেকে তিরোহিত, অন্য রাজা ক্ষমতায় আসীন এসব খবর আছে। এর বাইরে জানতে চাইলে ইতিহাসের কাছ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়।

অনেক সময় ও কাল আছে, যা ধূসর ইতিহাসে আবৃত। এর থেকে প্রকৃত ঘটনা আবিষ্কার করা কঠিন এক বিষয়। শুধু করা যায় ‘স্পেকুলেশন’।

হাজার বছর আগের কথা বলি কেন, আজ থেকে ৬৭ বছর আগের দেশভাগের সময়ের কথাও আমরা ভাবতে পারি না, এমন কি ভাবতে পারি না ১৯৭১ সাল-পূর্ব বাংলাদেশের কথা। আজ থেকে ষাট-পঁয়ষট্টি বছর আগে, পঞ্চাশ বছর আগে আমরা যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, আড়িয়াল খাঁ, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা দেখেছি তা কী আজ দেখতে পাওয়া যায়?

পাল তোলা নৌকা, পানশী নৌকা, মাঝিমাল্লার হাঁক আজ কী আছে? নদী-নালা, খাল-বিলবিধৌত বাংলাদেশ কী আজ আছ?

গরুর গাড়ি, গরু বাছুর, কলুর ঘানি এসব কী আজ আর দৃশ্যমান? দৃশ্যতই বোঝা যাচ্ছে চারদিকে আমূল পরিবর্তন।

পাহাড় দরিয়া হয়েছে, দরিয়া পাহাড় হয়েছে, আ-ঘাট ঘাট হয়েছে, ঘাট আ ঘাট হয়েছে। বাদশাহ ফকির হয়েছে, ফকির বাদশাহ হয়েছে।

এসবই ২০-৫০ বছরের পরির্তন। এসব দেখে মাথা গুলিয়ে যায়। মনে হয় এ বাংলাদেশ একটি অপরিচিত দেশ। এ ঢাকা একটি অপরিচিত শহর। এ জনপদ একটি অপরিচিত জনপদ।

২০-৫০ এমনকী ষাট-পঁয়ষট্টি বছরেই যদি এত পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে হাজার বছরে বাঙালীর পরিবর্তন কতটুকু? এ পরিবর্তনের কতটুকু ইতিহাসে বিধৃত আছে, আর কতটুকু স্পেকুলেশনের বিষয় তাই এখন বিবেচ্য।

ধর্ম, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি, দারিদ্র্য ও প্রাচুর্যের নিরিখে, এমন কি লিপির নিরিখে বাঙালীর পরিবর্তন কতটুকু?

বাংলা একাডেমীতে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির বইমেলার সময় আগে বাংলা বর্ণমালার ক্রমবিবর্তনের একটা চিত্র দেয়া হতো বোর্ডে, সেটা আজকাল দেয়া হয় কীনা তা জানি না। সেই বোর্ড থেকে আমরা জানতে পেরেছি হাজার বছর আগের বাঙালী অ, আ, ক, খ কীভাবে লিখত। আজকের দিনে ঐ সব নিতান্তই হাস্যকর মনে হবে। কারণ এখনকার বর্ণমালার সঙ্গে ঐ সময়ের বর্ণমালার কোনই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। যা কিছু পাওয়া যায় তা ধরা পড়ে গবেষকদের চোখে, সাধারণের চোখে নয।

বর্ণমালার পরিবর্তনের মতোই বাঙালী কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তিত হয়েছে, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন যা কিছু সবই সাদা চোখের দৃশ্যমান পরিবর্তন, তা গভীর কিছু নয়।

আমূল পরিবর্তন এসেছে বাঙালীর ধর্মবিশ্বাসে। হাজার বছর আগের কোন মসজিদ যেমন বাংলাদেশে নেই, তেমনি নেই কোন মন্দিরও। যদি ধর্মবিশ্বাসে বাঙালীর প্রধান দুটো ভাগ মুসলমান ও ‘হিন্দুই’ তখনকার কালে থাকবে তাহলে তাদের মসজিদ গেল কোথায়, মন্দির গেল কোথায়?

ড. সৈয়দ মাহমুদুল হাসানের একটি গ্রন্থের নাম ‘বাংলাদেশের মসজিদ’। তিনি ঐ গ্রন্থে দেখিয়েছেন ১২৯৮ খ্রিস্টাব্দে জাফর খান গাজী ত্রিবেনীতে মসজিদ স্থাপত্যের সূচনা করেন।

একই লেখকের আরেকটি গ্রন্থ হচ্ছে ‘বাংলাদেশের মন্দির।’ এ গ্রন্থে তিনি লিখছেন, উভয় বাংলায় ষোড়শ শতাব্দীর পূর্বে নির্মিত কোন মন্দির আবিষ্কৃত হয়নি। এ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে হাজার বছর আগে এ জনপদে বসত করত অন্য একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। বাংলার নিজস্ব একটা ধর্মমত ছিল।

ড. শহীদুল্লাহর মতে এই ধর্মমতটি ছিল ‘নাথ ধর্ম’।

১৯৯৫ সালে বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত এবং ড. আনিসুজ্জামান কর্তৃক সম্পাদিত শহীদুল্লাহ রচনাবলীতে ড. শহীদুল্লাহ বলেছেন, নাথ পন্থার আদিগুরু মীননাথ। মীননাথ ছিলেন বাঙালী প্রথম কবি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিবাশ্রয়ী ধর্মটির নামই নাথধর্ম। এ ধর্মের বহু গুরু চর্যাপদের অনেক পদের রচয়িতা। এ ধর্মটির জন্ম সপ্তম খ্রিস্টাব্দে এবং এর ব্যাপ্তিকাল একাদশ শতক পর্যন্ত।

প্রভাবশালী এই ধর্মমত ভারতের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে চর্যাপদ থেকে বাঙালীর শুরু তখন ধর্মমত ছিল দুটো: বৌদ্ধ ধর্ম এবং প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ এবং নাথধর্ম, যা বৌদ্ধ ও শৈবধর্মের শ্রেষ্ঠ উপকরণে গঠিত ছিল। এ সময়টাতে পাল রাজারা দৃশ্যপট থেকে তিরোহিত হচ্ছেন, সেন-বর্মণ রাজারা সামনে আসছেন।

এদিকে অদূরেই রয়েছেন বখতিয়ার খিলজি৷ এটা একটা যুগ-সন্ধিক্ষণ। এ সময়ের একটা পরিচয় পাওয়া যায় শওকত আলীর ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসে। তিনি দেখিয়েছেন কী করে একটা নাথ এবং বৌদ্ধ-প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ সমাজ ধীরে ধীরে ইসলাম ও ‘সনাতন ধর্মে’ বিভক্ত হয়। ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতকের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই প্রক্রিয়া ১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ হয় রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বাঙালী তার হাজার বছরের ইতিহাসে ধর্মমতের দিক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে দুটো ভাগে বিভক্ত হয়।

পরবর্তীকালে এ জনগোষ্ঠী বাংলাদশ এবং ভারতের ভৌগোলিক সীমানার নাগরিক হয়। ইত্যবসরে যে ধর্মীয় জনগোষ্ঠীটি প্রায় বিলীন হয় এই জনপদ থেকে সেই ধর্মীয় জনগোষ্ঠীটি হচ্ছে নাথ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী। বস্তুত এরাই সনাতনধর্মী ও মুসলমানে রূপান্তরিত হয়। হাজার বছরে বাঙালীর সমাজে গভীর পরিবর্তন সাধিত হয়। কিন্তু দারিদ্র্য ও ঐশ্বর্যের নিরিখে এ সব পরিবর্তনের গুণগত দিক বিচার করলে পরিবর্তনটি খুব ঠুনকো বলে মনে হয়।

চর্যাপদের কালে বাঙালীর মধ্যে দারিদ্র্য ছিল একটি বড় অভিশাপ। চর্যাপদের পাতায় পাতায় এই দারিদ্র্যের ছবি। দরিদ্র সমাজের ছবি ফুটে উঠেছে সেখানে। এ প্রসঙ্গে একটি চর্যার কথা এখানে উল্লেখ করা যায়।

“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।

হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেসী॥

বেঙ্গ সংসার বড়হিল জাস।

দুহিল দুধু কি বেন্টে ষামায়॥” (চর্যা: ৩৩)॥

 

অতীন্দ্র মজুমদার আধুনিক বাংলা করেছেন এভাবে:

টিলায় আমার ঘর, প্রতিবেশী নেই।

হাঁড়িতে ভাত নেই, নিত্যই ক্ষুধিত (অতিথি)।

(অথচ আমার) ব্যাঙের সংসার বেড়েই চলেছে (ব্যাঙের যেমন অসংখ্য ব্যাঙাচি বা সন্তান, তেমনি আমার সন্তানের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান)।

দোয়ানো দুধ আবার বাঁটে ঢুকে যাচ্ছে (যে খাদ্য প্রায় প্রস্তুত, তাও নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছে)।

এই একটি মাত্র পদ থেকে তৎকালীন বাঙালীর দারিদ্র্যের অবস্থা কি ছিল তা বোধগম্য৷ প্রশ্ন, আজ হাজার বছর পরে দারিদ্র্যের কথা বলতে গিয়ে কেউ যদি পদটিকে আধুনিক বাংলায় রূপান্তরিত করে আমাদের সামনে হাজির করেন তাহলে কী তা আজকের বাংলাদেশের চিত্রকে বর্ণনা করা হবে না?

১৯৪৭ সাল ধরে হিসাব করলে ৭৫ বছর, আর ১৯৭১ সাল ধরে হিসাব করলে ৫১ বছর হয়েছে দেশ স্বাধীন হয়েছে। দৃশ্যত দেশে কত পরিবর্তন। কৃষির গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে। শিল্পের গুরুত্ব বেড়েছে। সেবা খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। মানুষ কৃষি ছাড়াও অন্যান্য খাতে চাকরি-বাকরি পাচ্ছে। মোট জাতীয় উৎপাদনের সেবা খাতের অবদান এখন ৫০ শতাংশ। কত বিচিত্র পেশার জন্ম হয়েছে।

আগে ছিল কৃষি, মৎস্য ও নানা ধরনের জাতি-পেশা। এখন শত শত ধরনের পেশার কাজ বেরিয়েছে। রাস্তাঘাট, দালান-কোঠা-ইমারত হয়েছে প্রচুর। নগর হচ্ছে একের পর এক। বড় বড় শহর সৃষ্টি হয়েছে। লাখ লাখ বাঙালী দেশের বাইরে থাকে। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছে। লক্ষ-কোটি টাকার মাল আমদানি হচ্ছে, প্রায় সমপরিমাণ মাল রফতানি হচ্ছে। কিন্তু এতৎসত্ত্বেও দারিদ্র্যের অবস্থা কী?

আমাদের স্বাধীনতার পর থেকে শত শত ‘এনজিও’ কাজ করেছে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য। কেউ কেউ বলছেন, দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো হবে। সরকার দারিদ্র্য বিমোচনে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের অঙ্গীকারের প্রশ্নে বিদেশীদের মুখে খই ফোটে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে। দেশের ২৫-৩০ শতাংশ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে। তারা দু’ বেলা ভাত পায় না।

লাখ লাখ লোকের ঘর-বাড়ি নেই। নেই সামান্যতম চিকিৎসার সুযোগও। লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন জমি-জিরাত হারিয়ে ভূমিহীন হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। ধনীরা জমি কিনে নিয়ে মানুষকে দরিদ্র বানাচ্ছে। এমতাবস্থায় হাজার বছর আগের দারিদ্র্যের চিত্রের সঙ্গে আজকের চিত্রের কোন মৌলিক তফাৎ পাওয়া যায় কী?

সমাজ ও রাজনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে কী মৌলিক কোন পরিবর্তন সাধিত হয়েছে?

এ প্রশ্নের উত্তরে অতীন্দ্র মজুমদারের আশ্রয় নেয়া যাক। মজুমদার তাঁর ‘চর্যাপদ’ গ্রন্থে চর্যাপদের সমকালীন বাংলাদেশ সম্পর্কে লিখেছেন , তৎকালীন বাংলাদেশে একদিকে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্যের উগ্র আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যদিকে ছিল ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির সামাজিক আদর্শ ও ভাবধারার প্রসার। সমাজে এর বিপরীতে ছিল আর্যপূর্ব সংস্কৃতি ও সমাজ-চিন্তার জীবন বিন্যাস ও জীবনাদর্শের প্রতিরোধ চেষ্টা।

সমাজে ছিল দারিদ্র্য, অভাব অনটন, অত্যাচার নিপীড়ন ও শোষণ। তিনি লিখেছেন, এর বিপরীতে ছিল বিলাসব্যসন, কামচর্চা, কাব্যানুশীলন, চিত্রচর্চা।

একদিকে ছিল জ্ঞানসাধনা ধর্মসাধনা কঠোর চরিত্রানুশীলন এবং অন্যদিকে ছিল বিশ্বাসের অভাব, মনোজগতে নৈরাজ্যের আবহাওয়া এবং মানবতাবোধে-অবিশ্বাস।

মজুমদারের বর্ণনা আর বাড়িয়ে লাভ নেই। কারণ তাঁর এটুকু মন্তব্যই তৎকালীন বাংলাদেশের সমাজকে বুঝতে আমাদেরকে যথেষ্ট সাহায্য করে। এসব মন্তব্য, ইতিহাস ও ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় বাঙালীর জীবনে দৃশ্যত অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে এসেছি আমরা। কিন্তু এখনও দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পাইনি। এখনও একদিকে দারিদ্র্য এবং আরেক দিকে চলছে প্রাচুর্যের মাতলামি।

ভূগোল বদল হয়েছে, ধর্মবিশ্বাস বদল হয়েছে, সামাজিক উপরিকাঠামোতেও এসেছে পরিবর্তন, রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে এবং বদল হয়েছে রাজনীতি। কিন্তু দারিদ্র্য আমাদের পিছু ছাড়েনি।

বিপরীতে প্রাচুর্যের মাতলামিও বন্ধ হয়নি। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আধিপত্যের উগ্র আকাঙ্ক্ষা- এসবই আজো বিদ্যমান। অত্যাচার, নিপীড়নের রূপ হয়ত বদলেছে কিন্তু তা আছে রীতিমত জানান দিয়েই। পাশাপাশি আছে বিলাসব্যসন, কামচর্চা, কাব্যানুশীলন ও চিত্রচর্চা। অতএব হাজার বছর ধরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাঙালীর নিত্যসঙ্গী- একথা বলা কি অসঙ্গত হচ্ছে?

তথ্যসূত্রঃ বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলিম, সামাজিক বিবর্তন, ড. আর এম দেবনাথ

আরো পড়ুন>>

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!