মিয়ানমার জান্তা সরকার ১০০টিরও বেশি বৌদ্ধ মঠ, খ্রিস্টান গির্জা ধ্বংস করেছে।

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা সামরিক জান্তা সরকার উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্ব মিয়ানমারে ১০০টিরও বেশি বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় ভবন ধ্বংস করেছে। মিয়ানমারের একটি অলাভজনক সংবাদ ওয়েবসাইট দ্য ইরাওয়াডি এমটাই জানিয়েছে।

ওয়েবসাইটটি জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের নির্বাপিত করতে চলমান সামরিক অভিযান দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গত বছরের শেষের দিক থেকে, জান্তা সরকার চিন রাজ্যের সাগাইং এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলের পাশাপাশি কায়াহ রাজ্যেও কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে। জান্তা সরকার এসব এলাকায় স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে।

Myanmer
২০২১ সালের অক্টোবরে থানলাং-এ হামলার সময় দুটি গির্জা সহ ১৬০ টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। news.sky.com থেকে

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, জান্তা-সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির রাজ্য প্রশাসনিক ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই পাবলিক অসন্তোষ এবং রাস্তার বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়ে আসছে। নিরস্ত্র বেসামরিক জনগনের উপর সহিংস দমন-পীড়ন চলিয়ে যাচ্ছে এমনকি দেশের শান্তি প্রিয় শ্রদ্ধেয় সন্ন্যাসী সংঘও এই সহিংসা থেকে রেহায় পাচ্ছে না।

এক বছরের বেশি সহিংস দমন সত্ত্বেও, জান্তা সরকার তার শাসন কার্যক্রমে ব্যাপক বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলনের উপর আইন অমান্য অভিযোগ এনে নির্যাতনের ফলে সেদেশের সাধারন মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধের দিকে ঝুঁকছে।

মিয়ানমারের একটি ডেটা গবেষণা দল তাদের রিপোর্টে দেখিয়েছে যে, অভ্যুত্থানের শুরু থেকে জান্তা বাহিনী কমপক্ষে ৬,১৫৮টি বেসামরিক বাড়িঘর ধ্বংস করেছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, বেসামরিক নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার এবং বাড়িঘর ও ধর্মীয় ভবনে লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগের বিভিন্ন চিত্র ফুটে ওঠে রিপোর্টটিতে।

স্থানীয় মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি রিপোর্ট করেছে যে, খ্রিস্টান চিন রাজ্যে জান্তা আক্রমণের ফলে প্রায় ৩৫টি গীর্জা এবং ১৫টি অনুমোদিত ভবন ধ্বংস হয়েছে।

Myanmer
কায়াহ রাজ্যের রাজধানী লোইকাউতে স্যাক্রেড হার্ট চার্চটি 2021 সালের মে মাসে জান্তা শেলিংয়ের পরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যাতে চারজন নিহত হয়েছিল। irrawaddy.com থেকে

উপরন্তু, জান্তা-যারা প্রকাশ্যে বৌদ্ধধর্মকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে তারাই সাগাইং অঞ্চলে অন্তত ৩০টি এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলে ২০টি বৌদ্ধ বিহার ধ্বংস ও লুট করেছে।

২০১৬ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার এই দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৮৯.৮ শতাংশ বৌদ্ধ যারা সাধারনত থেরাবাদ ঐতিহ্যের অনুসারী। ৬.৩ শতাংশ খ্রিস্টান, ২.৩ শতাংশ মুসলিম এবং হিন্দু 0.5 শতাংশ। উপজাতী সাথে এবং অন্যান্য ধর্মের অন্তর্ভুক্ত 1 শতাংশ। সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দল ও তাদের নেতারা (ভিক্ষু, পাদ্রী, মৌলভী) রাস্তায় নেমেছে এবং সামরিক দখলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৷

ইউ ওয়ারিয়ামা, একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং জান্তা বিরোধী বসন্ত বিপ্লব সংঘ নেটওয়ার্কের একজন সদস্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে বৌদ্ধধর্মের রক্ষক হওয়ার দাবি করা সত্ত্বেও, জান্তা শাসন বারবার ধর্মীয় বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ করছে।

“তারা বৌদ্ধ ধর্মের অভিভাবক হিসেবে প্রমাণ করার জন্য প্যাগোডা এবং মঠ নির্মাণ করে ঠিকই কিন্তু কেউ যদি তাদের বিরুদ্ধে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলে বা যদি মনে করে তাদের ক্ষমতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তাহলে সে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হলেও হত্যা করতে দ্বিধা করবে না।”

প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি এবং গভর্নিং ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পার্টির অন্যান্য সদস্যদের আটক করার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ থেকে এক বছরব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রেখেছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে একটি সাধারণ নির্বাচনের পরে দেশের নতুন সংসদ অধিবেশন ডাকার কয়েক ঘন্টা আগে অভ্যুত্থানটি ঘটেছিল। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে NLD বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছিল।

#HRC49-এ, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট #WhatsHappeningInMyanmar এর উপর তার রিপোর্ট পেশ করেছেন।

তিনি বলেন, “#মিয়ানমারের জনগণের মানবাধিকার গভীর সংকটে রয়েছে।”

PRESS RELEASE ▶️ https://t.co/DX8JSj203W

REPORT ▶️ https://t.co/eykrZqsD2U pic.twitter.com/adKpthjrXY

 

আরো পড়ুন>>

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!