দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে বুদ্ধ কি করতে বলেছেন।

Martine Batchelor

মার্টিন ব্যাচেলর তার এক নতুন অনলাইন কোর্সে Vitakkasanthana Sutta নিয়ে আলোচনা করেন। তার আলোচনার সার সংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো।

থেরবাদ ও বৌদ্ধধর্মের প্রধান গন্থ ত্রিপিটকে পাওয়া একটি পাঠ্য Vitakkasanthana Sutta।

আমরা যারা ধ্যান করি তাদের জন্য বুদ্ধের দেশিত ”Vitakkasanthana Sutta” সূত্রটি বেশ সহায়ক।  প্রকৃতপক্ষে, এটিকে কখনও কখনও বিক্ষিপ্ত চিন্তার অপসারণও পদ্ধতিও বলা হয়। ইংরেজীতে The Removal of Distracting Thought বলে। সূত্রটি পড়তে ও বুঝতে বেশ সুবিধাজনক ও সংক্ষিপ্ত।

Buddhabarta
Martine Batchelor

“বুদ্ধ কঠিন বা বিরক্তিকর মুহুর্তগুলো মোকাবেলা করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষা দিয়েছেন। তার মধ্যে “Vitakkasanthana Sutta” একটি। বুদ্ধ মূলত ভাবনারত অবস্থায় কিভাবে আমরা আমাদের মনে উদিত বিভিন্ন খারাপ চিন্তা দূর করতে পারি সে বিষয়ে এই সূত্রে বলেছেন। তবে আমি মনে করি যে এই টিপসগুলি দৈনন্দিন জীবনেও সাধারন মানুষও ব্যবহার করে উপকৃত হতে পারে।”-মার্টিন ব্যাচেলর

প্রাত্যহিক জীবনে কিভাবে এই পদ্ধতি গুলোর কয়েকটি ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবো।  মনে করুন আপনি বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ সত্যিই একটি বিরক্তিকর ও ‍কুচিন্তা মাথায় চলে আসছে।  বুদ্ধ বলেন একটি বিরক্তিকর বা কুচিন্তা নিজের ও অন্যের ক্ষতি সাধন করে। এই ধরনের চিন্তা আপনাকে লোভ ও ঘৃণিত পথে পরিচালিত করতে পারে। এক সময় আপনাকে ক্ষতিকারক উপায়ে কাজ করতে বাধ্য করবে। কিন্তু বুদ্ধ সেই চিন্তা কার্যকরী হবার আগে তাকে মোকাবিলা করার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি বলে গেছেন।

আপনার যদি কারো বিষয়ে খারাপ ধারনা মনে আসে, তবে আপনি এই খারাপ চিন্তাটিকে ইতিবাচক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমবেদনায় রূপান্তর করতে পারেন। কারো বিষয়ে খারাপ চিন্তা যখন আপাকে আঘাত করবে তখন আপনি তার সাথে কাটানো ভাল সময় গুলোর কথা স্মরণ করুন, আপনার খারাপ ভাবনাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে বন্ধু ভাবতে চেষ্টা করুন। এক সময় আপনি খারাপ চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন।

যদি খারাপ চিন্তাটি অব্যহত রাখেন তবে তার প্রতি আপনার ঘৃণার সৃষ্টি হবে, তাকে আপনার শত্রু মনে হবে।  তার সাথে যে কোন খারাপ ব্যবহার করে ফেলতে পারেন। যা অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে এমন কি অপরাধ পর্যন্ত ঘটে যেতে পারে।

এমন চিন্তা যখন আপনার মধ্যে উদয় হবে তখন তার সাথে বন্ধুত্বের অনুভুতি নিয়ে চিন্তা করুন, তার জায়গায় নিজেকে চিন্তা করুন, অথবা অন্য কোন ভাল গুণ নিয়ে ভাবুন।

একটি সাধারণ উদাহরণ দেওয়া যায়: ধরুন আপনি কারও জন্য সকাল থেকে অপেক্ষা করছেন এবং ৯টা বেজে যাওয়ার পরও তারা আসছে না। তখন হয়তো আপনার মনে এটা আসতে পারে, দেখি ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। ৯টা ২০ মিনিট পরেও যখন তারা আসলো না তখন হয়তো আপনি ভাবতে পারেন “তারা আমাকে ভালবাসে না”। ৯টা ৩০ মিনিট বাজার পর আপনি বিরক্ত হয়ে হয়তো ভাবতে পারেন “আমাকে কেউ ভালবাসে না।” ৯টা ৪০ মিনিটে এসে আপনার মনে খুব বিরক্তি আসতে পারে। তাদের মনে মনে গালাগাল দিয়ে দিবেন হয়তো। তাদের অসভ্য ও বেইমান মনে হতে পারে।

এই নেতিবাচক চিন্তাভাবনা ক্রমাগত ভেবে যাওয়ার পরিবর্তে, বুদ্ধ আমাদের কিছুটা নমনীয়তা যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, তাদের দেরি হওয়াটাও স্বাভাবিক। তাদের দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে ভাবুন। হতে পারে তারা অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করছে বা এমন কিছু ঘটেছে যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তাই হয়তো তাদের সময়মতো পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

আপনি যদি পারেন তবে ইতিবাচক চিন্তাভাবনাকে আরও বেশি বাড়িয়ে তুলতে পারেন। হতে পারে আপনার বন্ধুর সাথে অসাধারণ কিছু ঘটেছে এবং সে কারণেই তারা দেরিতে করছে। অথবা হতে পারে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছে এক্ষেত্রে তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ উচিত।

বুদ্ধ আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন: তাড়াহুড়ো করে কোন সিদ্ধান্তে উপনিত হও না। আপনার বন্ধু কেন দেরী করেছে তা আপনি জানেন না। আপনি তাদের জন্য শুভকামনা করুণ।

দুশ্চিন্তার ফাঁদে পড়া এড়াতে আপনি আরো অন্যান্য পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। আপনি যখন “সর্বদা”, “কিছুই না,” “কখনই না”, “কেউ নয়” শব্দ গুলো ব্যবহার করেন তখন লক্ষ্য করুন এই সমস্ত শব্দগুলো বিরক্তিকর চিন্তাগুলিকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আপনি যখন মনে করেন, “কেউ আমাকে ভালবাসে না” বা “আমার জীবনে কিছুই হলো না”। তখন আপনি নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, এটা কি সত্য? এটা কি সবসময় সত্য? এই চিন্তার মানে কি? আমি কি সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু ভাবতে পারি?

আমাদের ধারণাগুলির উপরে আমাদের অবিশ্বাস্য শক্তি রয়েছে যা আমাদের অন্য যে কোনও চিন্তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এই শক্তি ব্যবহার করতে আমাদের নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান সৃজনশীল  জ্ঞান এবং মমত্ববোধ খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের ইতিবাচক হতে হবে।

One thought on “দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হতে বুদ্ধ কি করতে বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!