গৃহী নীতি: আহার প্রণালী ও পায়খানা-প্রস্রাব বিধান

আহার প্রণালী

ভোজনের পূর্বে স্নানান্তর মুখ, হাত, পা, উত্তমরূপে ধৌত করবে। পরিশুদ্ধ ও প্রফুলু-চিত্তে ভোজনাসনে উপবেশনান্তর ভোজন-কৃত্য সমাপণ করবে  উচ্ছিষ্ট হাতে ভাত-তরকারী নিবে না। অন্যমনস্ক না হয়ে আহার করবে। মুখে গ্রাস আনয়নের পূর্বে ব্যাদন করবে না।

খাবার সময় চপ চপ শব্দ করবে না। ভালরূপে চৰ্বণ করে আহার করবে। মুখে আহাৰ্য্য বস্তু নিয়ে কথা বলতে নেই। ভোজনের সময় নিন্দা করবার ইচ্ছায় অন্যের ভোজন পাত্রের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করবে না। অপরের উচ্ছিষ্ট ভোজ্য-পাত্র হতে আহাৰ্য্য-বস্তু গ্রহণ করে ভোজন করবে না। উচ্ছিষ্ট-থালায় জল দেওয়া ও হাত ধৌত করা অনুচিত। বিশেষ প্রয়োজন বোধে পার্শ্বে উপবিষ্ট ভোজনকারীকে বলে আসন ত্যাগ করতঃ মুখ হাত ধুবে। বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে সকলে একসঙ্গেই আসন ত্যাগ করে মুখ-হাত ধৌত করা বিধেয়।

ভোজনের পর মুখ হাত ধৌত করে পরিস্কার গামছা দ্বারা প্রথমে মুখ ও পরে হাত মুছিবে। নীরবেই ভোজন করা উচিত। অপরের ব্যবহার্য গামছা দ্বারা নিজের মুখ হাত মুছতে নেই।

খাবার সময় ছুরি-কাটা ব্যবহার করলে, তাতে কট কট শব্দ না হয় মত ব্যবহার করবে। বাম হাতে ছুরি-কাঁটা ও ডানহাতে চামচ ব্যবহার করতে হয়। ভোজন টেবিলে অপরিস্কার বস্ত্র দেয়া অনুচিত।

ভোজনের পর হত্যু লেহন করবে না। মুখে আঙ্গুল দিয়ে নখ কামড়ান বড়ই অন্যায় ভোজনের পর মুখে দুর্গন্ধ না থাকে মত ভালরূপে মুখ ধুবে। হাঁটতে হাঁটতে খাদ্য-দ্রব্যাদি খাওয়া অনুচিত।

জলপান করা সময়“ গড় গড়” শব্দ না করে, বসে নিঃশব্দে জলপান করবে। অপরের উচ্ছিষ্ট জল পান করবে না। নোংড়া সামান্য বস্ত্রখণ্ড বা কৌপিন পরিধান করে ভোজন করা আর্যোচিত আচার নয়। প্রাণী মাত্রেরই জীবন ধারণের প্রধান সহায় আহার। সুতরাং এবম্বিধ আহার মনানন্দে ভোজন করা উচিত।

পায়খানা-প্রস্রাব বিধান

পায়খানায় ঢুকলে, পায়খানা-গৃহের দূর্গন্ধ বায়ু যেন মুখ ও নাসিকা দিয়ে দেহে প্রবেশ না করে, সেরূপভাবে সাবধানে নিশ্বাস গ্রহণ করবে। পা পিছলিয়ে পায়খানার মল-মূত্রে না পড়ে মত সাবধানে পায়খানা-ঘরে ঢুকবে এবং তথা হতে বের হবে। মল-কূপে মূত্র ও শৌচ করা জল না পড়ে মত একটা নালা সংযোগ করে দিবে। এতে পায়খানার উৎকট গন্ধ দূরীভূত হয়। পায়খানা করা শেষ হলে, মসৃণ কাঠি দ্বারা গুহ্যস্থান মুছে তৎপর উত্তমরূপে জল শৌচ করবে। প্রতিবার প্রস্রাব করার পর স্রাবাঙ্গ জল দিয়ে ধৌত করা উত্তম এতে প্রস্রাবের কোন অংশ কাপড়ে বা শরীরে লাগার সম্ভাবনা থাকে না। পায়খানা হতে বের হয়ে ছাই-মাটি অথবা সাবান দ্বারা উত্তমরূপে হস্ত ধৌত করবে। লোকের সম্মুখে, রাস্তার ধারে, অথবা কোন প্রসিদ্ধ স্থানে পায়খানা-প্রস্রাব করবে না। কখনো দাড়িয়ে পায়খানা-প্রস্রাব করবে না।

আরো পড়ুন>>

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!