করোনা আক্রান্ত কম্বোডিয়ান বৌদ্ধদের জন্য ৫০০,০০০ মর্কিন ডলার অর্থ সহায়তা ঘোষণা

সান ফ্রান্সিসকো ভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা A Khmer Buddhist Foundation সম্প্রতি কম্বোডিয়ায় COVID-19 আক্রান্তদের সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রায় ৫০০,০০০ মার্কিন ডলার উপহার ঘোষণা করেছে। কম্বোডিয়ান আমেরিকান সমাজসেবী, অ্যাডভোকেট লীনা লাম প্রতিষ্ঠিত, এই ফাউন্ডেশনটির উদ্দেশ্য খেমারদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে তাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

কম্বোডিয়া ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান Friends International এর মাধ্যমে ৫০০,০০০ মার্কিন ডালারের অনুদান অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সহ করোনা মোকাবেলা সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে। অনুদানের একটি অংশ দরিদ্র শিশু এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরাসরি খাদ্য সহায়তা সরবরাহ করতে ব্যবহার করা হবে। কম্বোডিয়ার ১৫.৯ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশই খেমার জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

কম্বোডিয়ার বৃহত্তম প্রযুক্তি-সম্পর্কিত নিয়োগকর্তা ডিজিটাল ডিভাইড ডেটা, খেমার বৌদ্ধ ফাউন্ডেশনের এক সাথে কাজ করে।

আরো পড়ুন>>

খেমার বৌদ্ধ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ল্যাম বলেন, “কম্বোডিয়ায় বিধ্বস্ত COVID-19 পরিস্থিতির কথা শুনে আমরা দুঃখিত হয়েছি।” “যদিও আমরা আগে থেকেই জানি যে কম্বোডিয়ার জনগণ খুবই প্রাণোচ্ছল এবং এর আগেও যেকোনো পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রয়েছে। আমরা এটাও জানি যে পর্যাপ্ত সহায়তা এবং সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে এবং এই ভয়াবহ মহামারীর অবসান ঘটাতে সাহায্য করতে পারে। আমেরিকায় বসবাসরত কম্বোডিয়ানরা কম্বোডিয়াকে যে কোন ভাবে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত আছে। অপর দিকে ভারতীয় আমেরিকানরাও ভারতে কোভিড সংকটকে কাটিয়ে ওঠার জন্য সহায়তা করার জন্য বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।”

Lyna Lam
খামের বৌদ্ধ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লিনা লেম

লাম ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং কম্বোডিয়ান গণহত্যার পরে শরণার্থী হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেছিলেন এবং সেখানে সে দ্রুত সাফল্য অর্জন করেন। তিনি এবং তার স্বামী ক্রিস লারসন সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটির কলেজ অফ বিজনেসকে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উপহার দিয়ে ছিলেন। এখন এটাকে লেম ফ্যামিলি কলেজ অফ বিজনেস বলে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মতে, কম্বোডিয়ায় এই পর্যন্ত ৭৪,৩৮৬ করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং ১,৩২৪ মৃত্যুর রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম একটি দেশ, যা ছড়িয়ে পড়ার প্রথম দিকে ভাইরাস সংক্রমণে অপ্রতিরোধ্যভাবে সফল হয়েছিল। COVID-19 শুরু হওয়ার প্রায় ১ বছর পর ১১ মার্চ, সরকার দেশটিতে কোন করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির মৃত্যু খবর নিশ্চিত করেছিল।

যাই হোক, এপ্রিল মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং এটি অব্যাহত ভাবে বাড়ছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজারেরও বেশি নতুন আক্রান্ত ব্যাক্তি শনাক্ত হচ্ছে।

দেশটি টিকা প্রদান প্রচার প্রচারণা শুরু করে ফেব্রুয়ারিতে এবং এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্করা ১ম ডোজ টিকা গ্রহন করেরছ। ৪৪ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে। সরকার চীনের সিনোভাক ও সিনোফর্ম ভ্যাকসিন এবং জাপানের কোভাক্স অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের অনুদানের উপর নির্ভর করেছে।

বৌদ্ধ বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!