দক্ষিণ কোরিয়াকে বুদ্ধ মুর্তি উপহারের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করেতে চায় ভারত।

”ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস”  দক্ষিণ কোরিয়ান বৌদ্ধদের কাছে একটি ব্রোঞ্জ মুর্তি উপহার হিসেবে প্রদান করেছে। উল্লেখ্য ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস ভারত সরকারের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত একটি সংস্থা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংসানে অবস্থিত টঙ্গডো মন্দিরের প্রতিনিধিদের কাছে ব্রোঞ্জের তৈরী বুদ্ধের মূর্তিটি উপহার স্বরুপ প্রদান করেছে। উপহারটি দুটি দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগকে শক্তিশালী করার ইঙ্গিত হিসাবে প্রদান করা হয়েছে।

৩০ এপ্রিল সিওলে অবস্থিত ভারতের দূতাবাসের স্বামী বিবেকানন্দ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোরিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত শ্রী প্রিয়া রঙ্গনাথন এবং কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জা-ইন-এর সেক্রেটারি ইয়ে হান-গু, টঙ্গডোর ও দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের মন্দির এর ভিক্ষুগণ সহ অন্যান্য অতিথিবৃ্ন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গনাথন তার বক্তব্যে শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা টঙ্গডোসা মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং ইয়াংসানের জনগণের সাথে একটি সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। আজকে আামদের মাঝে একটি শুভ দিনের সূচনা হতে যাচ্ছে। টঙ্গডো বিহার থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হলেও আমাদের সম্পর্ক অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছি। এই সুন্দর দিনের মাধ্যমে ভারত এবং কোরিয়ার জনগণকে আরো কাছে আসার অপেক্ষায় রয়েছি। (কোরিয়া টাইমস)

টঙ্গডো মন্দিরের প্রধান ভিক্ষু হুনমুন ভারত ও টঙ্গডো মন্দিরের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক সৃষ্টির আশা করেন। ঐতিহ্যগতভাবে টঙ্গডো মন্দিরের সাথে ভারতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে যা ভারতে ভ্রমণ করতে আসা দক্ষিণ কোরিয়ার নগরিকগণ সৃষ্টি করেছিল যারা ভ্রমণে এসে বুদ্ধের শিষ্য হয়েছি। কোরিয়ায় এর অবস্থানও লক্ষণীয়, পাশ্ববর্তী মাউন্ট ইওনগচুক’কে রাজগৃহের (বিহার রাজ্যের আধুনিক রাজগীর) সাথে তুলনা করা হয়।

২০২০ সালের অক্টোবরে রাঙ্গনাথন কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান লি লি জা-ইওংয়ের সাথে মন্দিরটি পরিদর্শন করার সময় গত সপ্তাহে বুদ্ধের প্রতিমুর্তিটি উৎসর্গের প্রস্তাব রেখেছিলেন।

পূজনীয় ভিক্ষু হুনমুন অনুষ্ঠানে বলেন: “আমরা ভারতের রাষ্ট্রদূতকে বৌদ্ধধর্মের জন্মস্থান ভারত থেকে বুদ্ধের একটি মূর্তি আনতে বলেছিলাম এবং তার প্রচেষ্টায় ও ভারত সরকারের সদিচ্ছার কারনে আমাদের অনুরোধটি আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে COVID-19 মহামারীর কারণে নানান সমস্যার মধ্যেও  আমি আন্তরিকভাবে আশাবাদী যে আজকের দিনটি ভারত ও কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।” (কোরিয়া টাইমস)

অনুষ্ঠানে কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জা-ইন-এর সেক্রেটারি ইয়ে হান-গুও উপস্থিত ছিলেন এবং ভারত-কোরিয়ার সম্পর্কের গুরুত্বের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

ইও বলেন, “মুন জায়ে-ইন প্রশাসনের মূল কূটনৈতিক নীতি দক্ষিণ নীতির একটি অংশ হল ভারত। রাষ্ট্রপতি মুন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাদের আলোচনার সময় একে অপরকে ভাই ও বন্ধুকে ডেকেছিলেন। কোরিয়ায় প্রতিষ্টিত ঐতিহাসিক গয়া কিংডমের রানী হিও ওয়াং-ওকে ভারত থেকে এসেছিল এবং বৌদ্ধধর্ম কোরিয়ার একটি প্রধান ধর্ম। ভারত থেকে টঙ্গডো মন্দিরের দেওয়া বুদ্ধ মূর্তিটিকে স্বাগত জানাতে আমি উৎসাহিত। (কোরিয়া টাইমস)

হস্তান্তর অনুষ্ঠানের পরে, মূর্তিটি মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ১৬মে, ২০২১ মুর্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জনান মন্দির কমিটি। ১৯ মে, ২০২১ বুদ্ধপূর্ণিমায় বুদ্ধের জন্মদিন পালন করার দিন মূর্তিটি জনসাধারণের কাছে উন্মোচন করা হবে।

”বৌদ্ধিসত্ত্ব” শিরোনামের একটি প্রদর্শনীতে অনলাইনে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি দেখতে পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!